মির্জাপুরে বেপরোয়া মাদক কারবারিরা

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২১, ২২:১৪

মির্জাপুরে করোনা ও লকডাউনে মাদক কারবারিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ফলে বাড়ছে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই। জুয়া ও মাদকের ছোবলে পড়ে অনেকেই সর্বস্বান্ত। হাত বাড়ালেই এখানে পাওয়া যাচ্ছে ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা, দেশি-বিদেশি মদ, বাংলা ও চোলাই মদ। করোনায় উপজেলা প্রশাসন এবং আইনশঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যখন স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা দিতে ব্যস্ত এ সুযোগে অপরাধীরা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এলাকায় মাদক ও জুয়ার জমজমাট ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর দিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক হয়ে বাস ও ট্রেনযোগে উত্তরাঞ্চল থেকে মাদকের চালান আসছে মির্জাপুরে। মির্জাপুরে মাদক কারবারিরা বিভিন্ন ভাগে মাদকের চালান পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের পাড়ামহল্লায় বিভিন্ন কৌশলে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। দীর্ঘ দিন ধরে এ মাদক ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মির্জাপুর পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী মাদক কারবার ও জুয়াড় আসর। তাদের সহযোগিতা করে থাকেন আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা অপরাধী সিন্ডিকেট চক্র। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, এলাকার বাজারের অধিকাংশ চায়ের স্টলে পর্দার অন্তরালে লাখ লাখ টাকার জুয়া খেলা হচ্ছে। মাদক ও জুয়ার টাকা সংগ্রহ করতেই কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্যরা চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে।

সাহাপাড়া গ্রামে সরেজমিন দেখা গেছে, মাদক ও জুয়ার ভয়াবহ চিত্র। কলেজছাত্র ও ব্যবসায়ীসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, মাদক কারবারি ও জুয়াড়িদের কারণে রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করা যায় না। প্রকাশ্যেই চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই হয়। মাদকসেবীরা মাদক সেবন করে রাস্তাঘাটে মাতলামি করে পথচারীদের অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজও করছে। তারা অভিযোগ করেন, মাদক কারবারিদের মধ্যে পৌরসভায় ল্যাংড়া মালেক, মানিক, দুলাল, চন্দন, অসিম, হামজা, শ্রীকান্ত, উজ্জল, আলমগীর, অবিনাশ সরকারসহ পৌরসভায় দুই শতাধিক জুয়াড় সিন্ডিকেট চক্র রয়েছে। ল্যাংড়া মালেক দিনে ফেরি করে মাদক বিক্রি করছে প্রকাশেই। এই চক্রের সদস্যরাই বিভিন্ন ইউনিয়নে মাদক সরবরাহ করে আসছে বলে জানা গেছে।

এদিকে ইউপি চেয়ারম্যান মো. বাদশা মিয়া এবং মো. আব্দুর রউফ অভিযোগ করেন, ১৪ ইউনিয়নের বেশকিছু পয়েন্টে পাল্লা দিয়ে চলছে মাদক ব্যবসা ও জুয়ার আসরসহ নানা অপরাধ। পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. শামীম খান ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তাপস সাহা বলেন, এলাকার মাদক কারবারিরা খুবই শক্তিশালী। তাদের সহযোগিতা করে থাকেন একটি বিশেষ শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্র। মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে কথা বললেই তাদের নানাভাবে হয়রানি করা হয়। এ বিষয়ে তারা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন।

পৌরসভার মেয়র সালমা আক্তার শিমুল বলেন, পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড মাদকমুক্ত করার জন্য কাউন্সিলরসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে একাধিকবার উঠান বৈঠকসহ সভা-সমাবেশ করে যাচ্ছি। কোনো এলাকায় যাতে মাদক ক্রয়-বিক্রয় এবং জুয়া চলতে না পারে সেজন্য এমপি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং উপজেলা প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।

মির্জাপুর থানার ওসি (তদন্ত) মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি মির্জাপুরকে মাদকমুক্ত করার জন্য। মাদক ও জুয়াড়িরা যত শক্তিশালীই হোক না কেনো, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

উপজেল নির্বাহী অফিসার মো. হাফিজুর রহমান এবং এসিল্যান্ড মীর্জা মো. জুবায়ের হোসেন বলেন, মাদক ব্যবসা ও জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলেই পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে পরামর্শ করে তাদের আটকসহ মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা এবং কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হচ্ছে।