১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সবাইকে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে :স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২১, ২২:৩৩

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, দেশের শিক্ষা কার্যক্রমকে পুনরায় গতিশীল করতে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সব নাগরিককে ক্রমান্বয়ে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের আওতায় নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে জাতীয় পরামর্শক কমিটির সুপারিশ রয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মহাখালীর বিসিপিএস ভবনে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কোভিড-১৯ আইসিইউ বেড সম্প্রসারণ এবং আউট পেশেন্ট ডিপার্টমেন্টের (ওপিডি) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সব নাগরিককে ক্রমান্বয়ে টিকার আওতায় আনতে বদ্ধপরিকর। বর্তমানে সরকারের হাতে ৪৫ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন রয়েছে। গত ১৪ জুলাই থেকেই ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম পুরোদমে চালু হয়েছে। তিনি বলেন, চীন  থেকে আগেই ২০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন সরকার হাতে পেয়েছে। আরো দেড় কোটি ভ্যাকসিন প্রতি মাসেই দেশে আসতে থাকবে। এর পাশাপাশি অ্যাস্ট্রাজেনেকার ২৯ লাখ ডোজ বরাদ্দ রয়েছে। দেশে যারা প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন নিয়ে দ্বিতীয় ডোজের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন তারা এই অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন থেকে দ্বিতীয় ডোজ নিতে পারবেন। এর পাশাপাশি ফাইজারের ভ্যাকসিনও আগামী মাসে আসবে। এই মুহূর্তে দেশে ৩ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন মজুত রাখার সক্ষমতা স্বাস্থ্য খাতের হাতে রয়েছে। সুতরাং বিদেশ থেকে ভ্যাকসিন এনে তা ভালোভাবে রেখে বন্টন করতে কোনো সমস্যা হবে না।

কোভিড-১৯ মোকাবিলায় নতুন করে আরো ২ হাজার চিকিত্সক ও ৪ হাজার নার্স নিয়োগের কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি টেকনোলজিস্ট নিয়োগের কাজও চলমান রয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ঢাকা মেডিক্যালে নতুন করে কোভিড- চিকিত্সায় ১৩টি আইসিইউ বেড, একটি ডায়ালাইসিস সেন্টার ও চারটি ভেন্টিলেটর স্থাপন বড় ভূমিকা রাখবে বলে জানান জাহিদ মালেক।

স্বাস্থ্য খাতের সমালোচনা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সমালোচনা হওয়া উচিত যারা স্বাস্থ্য খাত নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্তি করে তাদের নিয়ে, যারা মুখে মাস্ক পড়ে না তাদের নিয়ে। দেশে এখন খাদ্যের কোনো অভাব নেই, শিল্প বন্ধ হয়নি, স্বাস্থ্যসেবা চলমান রয়েছে তাহলে স্বাস্থ্য খাত নিয়ে কেন এত চক্রান্ত? এই চক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর অর্জনকে ম্লান করার ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই না।

পরে ঢাকা মেডিক্যালকে চারটি ভ্যান্টিলেটর উপহার দেন ব্যবসায়ী মো. মাসুদ রানা। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হকের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী দ্বীন মোহাম্মদ প্রমুখ।