বিশ্বে করোনা সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউ এখন প্রাথমিক পর্যায়ে :ডব্লিউএইচও

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২১, ২২:৩৪

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করে বলেছে, ডেলটা ভ্যারিয়েন্টের ভয়াবহ বিস্তারের কারণে করোনা সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউ শুরু হয়ে গেছে। সংস্থাটির প্রধান টেড্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসুস বুধবার কাডিভ-১৯ এর জরুরি কমিটির আলোচনায় বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা ইতিমধ্যেই তৃতীয় ঢেউয়ের প্রাথমিক স্তরে পৌঁছে গিয়েছি। এর কারণ করোনার ডেলটা ভ্যারিয়েন্টের ব্যাপক সংক্রমণ। ইতিমধ্যেই এই ভ্যারিয়েন্ট বিশ্বের ১১১টি দেশে শনাক্ত হয়েছে। করোনা বিধি-নিষেধ শিথিলের প্রবণায় বিশ্বের অধিকাংশ দেশে নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে সংক্রমণ। বাড়ছে মৃত্যুও।

তৃতীয় ঢেউ নিয়ে সতর্ক করে ডব্লিউএইচ বলেছে, করোনাভাইরাস যে ক্রমশ নিজেকে বদলাচ্ছে এবং আরো সংক্রামক রূপ নিচ্ছে, তা ভুলে গেলে চলবে না। আমাদের আশঙ্কা, খুব শিগিগরই করোনার ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট গোটা বিশ্বে আধিপত্য করবে।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, বিশ্বে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা গত চার সপ্তাহ ধরে নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে। সংস্থাটির নির্ধারিত ছয়টি অঞ্চলের মধ্যে পাঁচটিতেই সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী ধারা লক্ষ্য করা গেছে। ঘেব্রেয়েসুস বলেন, কিছু কিছু দেশে টিকার অভাব আর কিছু দেশে করোনা বিধি মানার গাফিলতিই তৃতীয় ঢেউয়ের প্রাথমিক স্তরে আমাদের পৌঁছে দিয়েছে। তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরের মধ্যেই বিশ্বের সব দেশকে তাদের মোট জনসংখ্যার অন্তত ১০ শতাংশকে টিকা দেওয়ার কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে। আর এ বছরের শেষে প্রতিটি দেশের নাগরিকদের অন্তত ৪০ শতাংশকে টিকা দিতে হবে। আর ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে কমপক্ষে ৭০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনতে হবে।

টিকা সরবরাহ-বণ্টনের বৈশ্বিক বৈষম্যকে বেদনাদায়ক বলে অভিহিত করেন তিনি। তবে শুধু টিকা দিয়ে এই মহামারিকে থামানো যাবে না উল্লেখ করে তিনি উপযুক্ত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ কৌশলগুলো অনুসরণ করে যেতে দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এশিয়ার নতুন কেন্দ্রস্থল এখন ইন্দোনেশিয়া

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, ইন্দোনেশিয়া এখন এশিয়ায় করোনা সংক্রমণের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে। বুধবার দেশটিতে একদিনে নতুন করে ৫৪ হাজার ৫১৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। বিশ্বের চতুর্থ জনসংখ্যার দেশটিতে সংক্রমণের হার খুবই ভয়াবহ। ২৭ কোটি জনসংখ্যার দেশটিতে একদিনে আক্রান্তের সংখ্যায় ভারতকে ছাড়িয়ে গেছে। এই সংক্রমণের ধারা অব্যাহত থাকলে দেশটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থা খাদের কিনারে ঠেকতে পারে। অনেকেই বলছেন, পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। কারণ অনেক মানুষই ভাইরাসের সংক্রমণ পরীক্ষা করতে পারছে না। এদিকে মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়ায় সংক্রমণ বাড়ছে।