হাইতির প্রেসিডেন্ট জোভনেল ময়েস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে। এদিকে হাইতিতে বিশ্বাসযোগ্য ও সমন্বিত সরকারকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর সিএনএনের
বুধবার প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের জাতীয় নিরাপত্তা ইউনিটের প্রধান দিমিত্রি হেরার্ডকে পুলিশ প্রধানের অফিসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাকে রাজধানী পোর্ট অব প্রিন্সের পুলিশ স্টেশনে নেওয়া হয়। হেরার্ডের আইনজীবী দলের প্রধান কার্ল মার্টিন এই তথ্য জানিয়েছেন। মার্টিন জানান, হেরার্ড পুলিশকে জিজ্ঞাসা করেছিল, তাকে কেন আটক করা হয়েছে। তখন পুলিশের পক্ষ থেকে জবাব ছিল, ওপরের নির্দেশে তাকে আটক করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় হেরার্ডের সঙ্গে আলাপের পর মার্টিন এই তথ্য জানান। যদিও হেরার্ডের ফোন ও বন্দুক নিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে মার্টিন এক পুলিশ কর্মকর্তার ফোনের মাধ্যমে হেরার্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বুধবারই আদালত হেরার্ডকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিলেও তিনি উপস্থিত হননি।
মার্টিন জানান, নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে সাবেক প্রেসিডেন্ট ময়েস সবকিছুই জানতেন। আর হেরার্ডের অধীনে তো কিছু পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। এর মধ্যে কেবল হেরার্ডকেই আটক করা হয়েছে। হেরার্ড সুষ্ঠু তদন্ত হবে বলে আশা করছেন, জানিয়েছেন মার্টিন। তদন্তে পুলিশের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোল এবং মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআই সহায়তা করছে।
প্রেসিডেন্টের শরীরে এতগুলো গুলি লাগলেও তার এক জন দেহরক্ষীও আহত হননি। দেশটির নির্বাচনমন্ত্রী মাথিয়াস পিয়েরে প্রশ্ন রেখেছেন, হামলাকারীরা গাড়ি কোথা থেকে পেল এবং কীভাবে তারা দেশে এলো? তিনি আশা করেছিলেন, দেহরক্ষীরাই হয়তো প্রেসিডেন্টের বুলেটগুলো গ্রহণ করবে; কিন্তু সেটা তো হয়নি। হাইতির পুলিশ বলছে, ২৮ জন হামলায় জড়িত। ২৬ জন কলম্বিয়ান এবং দুই জন আমেরিকান। দুই মার্কিনি দোভাষী বলে জানা গেছে। কয়েক জন আবার এফবিআই এবং মার্কিন ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি (ডিইএ) এর তথ্যদাতা ছিলেন। ডিইএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এক জন তো তাদের গোপনীয় তথ্যদাতা ছিলেন। এফবিআই তাদের তথ্যদাতা সম্পর্কে কিছু জানায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগের পশ্চিম গোলার্ধ বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত উপসহকারী মন্ত্রী লরা লকম্যান ভয়েস অব আমেরিকাকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি সমন্বিত ও বিশ্বাসযোগ্য হাইতি সরকারকে সমর্থন করবে। গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট জোভনেল ময়সের হত্যার পর হাইতি সরকারের সহায়তার অনুরোধে ১১ জুলাই প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন লকম্যানকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পাঠান। যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিনিধিদল হাইতির ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ক্লড জোসেফ, নতুন নিয়োগ পাওয়া প্রধানমন্ত্রী অ্যারিয়েল হেনরি এবং সিনেটর জোসেফ ল্যাম্বার্টের সঙ্গে দেখা করেছেন।
