সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে প্রধান বিচারপতির সমালোচনা ও পদত্যাগ চাওয়ায় আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম আশরাফকে তলব করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আগামী ৮ আগস্ট তাকে সশরীরে আদালতে
হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. ইমান আলীর সভাপতিত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন। এই সময়ের মধ্যে ঐ আইনজীবী দেশের কোনো আদালতে মামলা পরিচালনা করতে পারবেন না বলে নির্দেশ দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আদালত বলেছে, এ ধরনের স্টেটমেন্ট মারাত্মক অবমাননাকর। তার এই স্টেটমেন্ট সরাসরি প্রধান বিচারপতি এবং সুপ্রিম কোর্টকে আঘাত করেছে।
কোর্ট খোলা রাখা নিয়ে বুধবার প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ চেয়ে ও সমালোচনা করে নিজ ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দেন ব্যারিস্টার আশরাফ। গতকাল আপিল বিভাগের বিচার কার্যক্রম শেষে তা প্রধান বিচারপতির নজরে আনেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পোস্টটি ভার্চুয়াল কোর্টে উপস্থাপন করে বলেন, এটা আদালত অবমাননাকর।
এ পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, আমি যখন কোনো সিদ্ধান্ত নেই তখন একা নেই না। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র বিচারপতিদের সঙ্গে আলাপ করেই সিদ্ধান্ত নেই। আমার একার সিদ্ধান্ত ভুল হতে পারে। তিনি বলেন, গত বছর করোনা পরিস্থিতিতে প্রথম যখন কোর্ট খুলেছি তখন আমার সমালোচনা করেছে আইনজীবীরা। সেই কোর্ট খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলেছি। এরপর সিনিয়র বিচারপতিদের সঙ্গে আলোচনা করে কোর্ট খোলা রেখেছি।
বিচারপতি ইমান আলী বলেন, এই বারের আইনজীবী হয়ে ফেসবুকে এ ধরনের পোস্ট খুবই দুর্ভাগ্যজনক। আপনারা (আইনজীবীরা) কোর্ট খোলার জন্য অনুরোধ করেন। আবার অনেকে সমালোচনা করেন। যেন আমরা পুতুল হয়ে গেছি।
বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, চিফ জাস্টিস পদটি তো একটা প্রতিষ্ঠান। এভাবে পোস্ট দেওয়া মানে প্রতিষ্ঠানের প্রতি অনাস্থা।
বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান বলেন, চিফ জাস্টিসের পদ কোনো পলিটিকাল পোস্ট নয়। যে তাকে নিয়ে এভাবে পোস্ট দেবে। এই আইনজীবী তো নন প্র্যাকটিশনার নন। কোনো বক্তব্য থাকলে বারের সভাপতি-সম্পাদককে বলতে পারে।
বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কী বিষয়ে পোস্ট দেওয়া যাবে বা যাবে না সেটা না জানলে ডিজিটাল আইনের মামলায় আইনজীবী কীভাবে মক্কেলকে আইনি সহায়তা দেবেন। সুপ্রিম কোর্টের ছুটি নিয়েও অনেকে সমালোচনা করেন কেউ কেউ। ছুটি মানে তো অবকাশ নয়। এই ছুটি তো রাখা হয়েছে বিচারপতিদের রায় লেখার জন্য। আর রায় লেখা তো সহজসাধ্য বিষয় নয়।
এ পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, লকডাউনে তো সরকার কোর্ট বন্ধ রাখতে বলেছিল। কিন্তু আমরা ভার্চুয়ালি কোর্ট পরিচালনা করেছি। সরকারকে বলেছি কোর্ট বন্ধ থাকবে কি না সেটা সিদ্ধান্ত নেবে সুপ্রিম কোর্ট। এরপরই সরকারের বিধিনিষেধের প্রজ্ঞাপনে সেটা সংশোধন করা হয়। এরপরই আপিল বিভাগ ঐ আইনজীবীকে তলবের আদেশ দেয়। একই সঙ্গে আইনজীবী আশরাফের ফেসবুক পোস্ট অপসারণ করে তার সবগুলো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে বিটিআরসিকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
