রাজধানীর মগবাজারে ‘রাখি নীড়’ নামের তিন তলা ভবনের নিচ তলার একটি দোকানের বদ্ধ একটি অংশে ‘জমে থাকা গ্যাস’ থেকেই ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। ঐ ঘটনার পর গত ১৮ দিনের নিজস্ব অনুসন্ধানে এমন তথ্য পেয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) এর তদন্ত টিম। একই তথ্য পেয়েছে ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত টিমও। তিতাস গ্যাস এরই মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এ দুটি সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদনেও ঐ ভবনে জমে থাকা গ্যাস থেকেই এই বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সেই গ্যাসের উত্স কী, সে বিষয়ে এখনো কোনো সংস্থাই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি। এছাড়া বিস্ফোরক পরিদপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদন এখনো জমা পড়েনি। তবে তারাও ঘটনাস্থলে হাইড্রোকার্বনের উপস্থিতি পাওয়ার কথা ইতোমধ্যে জানিয়েছে।
জানা গেছে, ফায়ার সার্ভিসের গঠিত তদন্ত কমিটি গত বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ঐ ঘটনার গ্যাসের উত্স এখনো চিহ্নিত করা যায়নি। তবে বেঙ্গল মিটের দোকান থেকে বিস্ফোরণ হয়েছে, এটা নিশ্চিত।’
জানতে চাইলে সিটিটিসির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ভবনটিতে জমে থাকা গ্যাস থেকেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে তদন্তে এখন পর্যন্ত আমরা নিশ্চিত হয়েছি।’
সিটিটিসির তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলেন, এ সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। ঐ প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
গত ২৭ জুন রাতে মগবাজার ওয়্যারলেস গেট সংলগ্ন এলাকায় এক ভবন কম্পিত করে বিভীষিকা ছড়ানো বিকট শব্দের এই বিস্ফোরণে এ পর্যন্ত ১২ জনের প্রাণহানি ঘটে।
