ইচ্ছা ছিল পড়বেন অ্যাকাউন্টিংয়ে। মেলাবেন হিসাব-নিকাশ। কিন্তু তা হয়নি। পড়েছেন ম্যানেজমেন্টে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। তবে স্বপ্ন আর পড়াশোনার গড়মিল হলেও একটা জায়গায় এখন থিতু হয়েছেন। পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের পণ্যর ব্র্যান্ডিং। তিনি কেএমজি কিবরিয়া। কাজ করছেন ইলেকট্রনিক্স পণ্য উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান মিনিস্টার হাইটেক পার্ক লিমিটেডের হেড অব ব্র্যান্ড অ্যান্ড মিডিয়া হিসেবে।
ছাত্রাবস্থায় কিবরিয়া জড়িত ছিলেন নানা ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে। ভালো আবৃত্তি করেন বলেই সম্ভবত গুছিয়ে কথা বলেন। ভরাট গলায় আর নিজের মেধার বিচ্ছুরণ ঘটিয়ে জানান দেন নিজের ব্র্যান্ডই সেরা। নিজেও কি নন?
এমন কথায় জানান, ‘না আমি সেরকম কিছু নই। প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী আর কাস্টমারের সেবায় নিয়মিত নতুন নতুন চিন্তা করতে হয়। সেই চিন্তাই মানুষের মাঝে মিনিস্টারকে আলাদা করে সবার কাছ থেকে। তবে এটা আমার একার চেষ্টা বা উদ্যোগ নয়, আমার পুরো টিম বিশেষ করে আমার প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে কৃতজ্ঞ।’
বিনয়ী কিবরিয়া নিজেকে জানান দেন এভাবেই। আর এই বিনয়ই তাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সামনে। নতুন বছরে পেয়েছেন পদোন্নতি। সেটা একটা আনন্দের উপলক্ষ বটে। জানান, তিনি যখন কাজ শুরু করেন, তখন প্রতিষ্ঠানে ব্র্যান্ডিং ডিপার্টমেন্টই হয়নি। তবে ওই সময় মিনিস্টারের পণ্য নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একটি বিজ্ঞাপন খুব জনপ্রিয় হয়। এছাড়াও সারাদেশে ব্র্যান্ডিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। জিম্বাবুয়ে-বাংলাদেশ ক্রিকেট টুনার্মেন্ট স্পন্সর করাসহ আরও নানাভাবে মাইওয়ান গ্রুপের মিনিস্টারকে সবার সামনে সফলভাবে তুলে ধরেন। এত সব কাজ করতে করতেই কখন তিনি শিখে নিয়েছে সব কাজ এবং গড়ে তুলেছেন একটি দক্ষ টিম। তবে শুরুতে ভয় থাকলেও সবকিছু নিয়েছিলেন চ্যালেঞ্জ হিসেবে। এ কারণেই মিনিস্টার হাইটেক পার্ক লিমিটেডের পাশাপাশি কিবরিয়াও একটি পরিচিত নাম কর্পোরেট দুনিয়ায়।
ভালো কাজ ও সম্পর্কের মাধ্যমে, কমিউনিকেশন ফিল্ডে ক্যারিয়ার বিল্ড আপ করতে বিশ্বাসী তিনি। ক্যারিয়ার নিয়ে ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কমিউনিকেশন ডিপার্টমেন্টে কাজ করতে চাই এবং এটার মাধ্যমে সবকিছু শেখার পাশাপাশি উপভোগ করতে চাই। সামনে হতে চাই এই জগতের সেরা ও সফল মানুষ।’
কিবরিয়ার মতো তরুণেরা যদি এই পেশায় আসতে চান তাহলে তাদের জন্য পরামর্শ কী? বললেন, ‘দক্ষ ও পেশাদার তরুণের জন্য চাকরি পাওয়া কঠিন কিছু নয়। তবে এ কারণে সবার আগে নিজেকে যোগ্য করে তুলতে হবে।’
তিনি পরামর্শ দেন, ‘পড়াশোনার পাশাপাশি এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি ছাত্র থাকাকালীনই নিজের কিছু স্কিল ডেভলপ করে রাখতে হবে। তাহলে আর পিছন ফিরে তাকাতে হবে না।’ যেমনটা তাকাতে হয়নি কিবরিয়ার মতো তরুণের।
