ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নন্দীগ্রাম আসনের নির্বাচনসংক্রান্ত মামলা কলকাতা হাইকোর্টের অন্য বেঞ্চে সরানোর আর্জি জানিয়েছিলেন। এবার বিরোধী দলনেতা নিরপেক্ষ বিচার চেয়ে ঐ মামলা অন্য রাজ্যের উচ্চ আদালতে সরানোর আবেদন জানিয়েছেন। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে এই আবেদন করেন তিনি। তার আশঙ্কা, কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার নিরপেক্ষ বিচার পাওয়া যাবে না। তাই দেশের অন্য যে কোনো হাইকোর্টে এই মামলা সরানোর দাবি তার।
বিধানসভার নন্দীগ্রাম আসনের নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে ইলেকশন পিটিশন দাখিল করেন মমতা ব্যানার্জি। এই আসনে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছেন তিনি। তার অভিযোগ মূলত শুভেন্দুর বিরুদ্ধে। প্রথমে ঐ মামলাটি বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চে যায়। বিচারপতি চন্দের সঙ্গে বিজেপির পূর্ব সম্পর্ক রয়েছে, এই অভিযোগ তুলে ‘নিরপেক্ষ’ বিচারের জন্য ঐ বেঞ্চ থেকে অন্য বেঞ্চে মামলা সরানোর আর্জি জানান মমতা। মমতার সেই আর্জি মেনে মামলা থেকে অব্যাহতি নেন বিচারপতি চন্দ। বুধবার মামলাটির শুনানি হয়েছে বিচারপতি শম্পা সরকারের বেঞ্চে। পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা আগামী মাসে। তার আগেই এই মামলা রাজ্যের বাইরে নিয়ে যাওয়ার আবেদন করেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক। এই মর্মে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেন তিনি। তবে সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানির দিনক্ষণ এখনো ধার্য হয়নি।
কাঁথির পৌরভবন থেকে ত্রিপল চুরির মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত তথা শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ চঞ্চল নন্দীকে এখনই গ্রেফতার করা যাবে না বলে জানিয়েছে হাইকোর্ট। তার বদলে চঞ্চলের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ রয়েছে, তা জানানোর জন্য রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পাঁচ সপ্তাহ পরে ফের এই মামলার শুনানি হবে।
উল্লেখ্য, কাঁথি পৌরসভার ডর্মেটরি বিল্ডিংয়ের গুদাম থেকে লক্ষাধিক টাকার ত্রিপল চুরি মামলায় সরাসরি নাম জড়িয়েছে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। ঐ কাণ্ডে আরো এক অভিযুক্ত শুভেন্দুর ছোট ভাই তথা কাঁথি পুরসভার সাবেক চেয়ারম্যান সৌম্যেন্দুও। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।
