এসএসসি’র বাংলা প্রথমপত্র

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২১, ১৮:৪০

এইচ.এম ফেরদাউস হাসান রাসেল

প্রভাষক

মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ, ঢাকা

 

লুনা শতভাগ অটিস্টিক একটি শিশু। তার মা-বাবা ফুটফুটে এক কন্যা সন্তান পেয়ে যতটা প্রফুল্ল ছিলেন, মেয়ে বেড়ে উঠতেই ততটাই বেদনাহত হলেন। সন্তানের এমন অবস্থায় পারিবারিক ও সামাজিকভাবে কত যে নাজেহাল হতে হয়েছে, তার লেখাজোখা নেই। প্রথমটায় তারা খুব ভেঙে পড়েছিলেন। কিন্তু ‘অল্পকদিনেই এই কষ্ট সামলে নিয়ে লুনার মা তার প্রাণপ্রিয় সন্তানকে সর্বাত্মক সাহায্য করতে লাগলেন। লুনা যাতে স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপনে সক্ষম হয়ে ওঠে সে জন্য যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন।

ঘ. সুভার মা লুনার মায়ের বিপরীত চরিত্র বলেই সুভার জীবন বেদনাময় হয়ে উঠেছে-মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।                                                                                          

ঘ) ‘সুভার মা লুনার মায়ের বিপরীত বলেই সুভার জীবন বেদনাময় হয়ে উঠেছে’- উক্তিটি যথার্থ।

্একজন প্রতিন্ধী ব্যক্তির জন্য তার পরিবারই সবচেয়ে বড় আশ্রয়। পরিবারের স্নেহছায়া ব্যতিরেকে তার পক্ষে জীবনধারণ প্রায় অসম্ভব। পরিবারের সহায়তায় একজন প্রতিবন্ধীও অনেক ক্ষেত্রে সফল হতে পারে। উদ্দীপকে আমরা দেখি, লুনা অটিস্টিক শিশু হওয়া সত্ত্বেও লুনার মা তাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে। প্রথম দিকে কষ্ট পেলেও পরবর্তীকালে লুনার মায়ের এই পদক্ষেপ তার জন্য অবশ্যই ইতিবাচক। এর ফলে তার জীবন অবশ্যই অনেকটা স্বস্তিকর হবে। অন্যদিকে ‘সুভা’ গল্পে আমরা দেখি সুভার মায়ের বিপরীত চিত্র। সুভার মা সুভাকে গর্ভের কলঙ্ক মনে করতেন। তার প্রতি সব সময় অসহিষ্ণু আচরণ করতেন। বাবা-মায়ের বিরক্তি ও অবহেলা উপলব্ধি করে সুভা আরও কষ্ট পেত। তার যন্ত্রণাময় জীবন আরও বেদনাময় হয়ে উঠত।

উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, লুনার মা মেয়েকে যেভাবে সহযোগিতা করেছে সুভার মা তা করেন নি। বরং বিপরীত কাজটাই করেছেন। তাঁর অবহেলা সুভার মনে হীনম্মন্যতার জন্ম দিয়েছে। ফলে আমরা বলতে পারি, সুভার মা লুনার মায়ের বিপরীত চরিত্র বলেই সুভার জীবন বেদনাময় হয়ে উঠেছে।