আনন্দ পট

মহাকাশে পর্যটন, নতুন যুগের সূচনা

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২১, ১৯:১৪

 

মহাকাশ নামক রহস্যময় এ জগতের আরেকটি ধাপ উন্মোচন করলেন ভার্জিন গ্যালাকটিকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার রিচার্ড ব্যার্নসন। গেল রবিবার ১১ জুলাই ২০২১ সকালবেলা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউমেক্সিকোতে অবস্থিত স্পেসপোর্ট আমেরিকা থেকে স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে মহাকাশে যাত্রা শুরু করেন। তাঁর সাথে ছিলেন দুজন পাইলট এবং তিনজন ক্রু। ভূমি থেকে তাদের মহাকাশযানকে ১৫ কিমি (৯ মাইল) উচ্চতায় পৌঁছে দেয় বিশেষ একটি বিমান। সেখান থেকে মহাকাশযান স্পেসশিপ ইউনিটি ঘণ্টায় তিন হাজার কিলোমিটারেরও বেশি গতিতে উল্লম্ব যাত্রা শুরু করে এবং খুব অল্প সময়ে উর্দ্ধাকাশে ৮০ কিমি (প্রায় ৫০ মাইল) ছাড়িয়ে যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেঁধে দেয়া এই দূরত্ব থেকেই শুরু হয় মহাকাশ। ব্যার্নসনের স্পেসশীপটি ৯০ কিমি (প্রায় ৫৬ মাইল) উচ্চতায় পৌঁছালে রকেট এগিয়ে নেবার ইঞ্জিনটি বন্ধ করে দেয়া হয়। সে সময়ে কয়েক মিনিটের জন্য সিটবেল্ট খুলে ১২ জানালা বিশিষ্ট কেবিনের যাত্রীরা ভরশূন্যতার অভিজ্ঞতা অর্জন এবং উপভোগ করেন। এ সময়ে ব্যার্নসনকে খুব উল্লসিত দেখা যায়। তিনি বলেন, একটি জীবনের জন্য এ এক অভিনব অভিজ্ঞতা। সত্যিকার অর্থেই এ এক অভিনব এবং অনন্য অভিজ্ঞতা। মহাকাশে পর্যটনের উদ্দেশ্যে ভার্জিন গ্যালাকটিক ২০০৪ থেকে কাজ করে যাচ্ছে। মাঝখানে পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের সময় ২০১৪ সালে এক দুর্ঘটনায় একজন পাইলটের প্রাণহানি ঘটলে, এ কার্যক্রম অনেকখানি বাধা প্রাপ্ত হয় এবং পিছিয়ে পড়ে। রিচার্ড ব্যার্নসন জানিয়েছেন, আগামী বছর ২০২২ থেকে পূর্ণ উদ্যমে নিয়মিতভাবে মহাকাশ বাণিজ্যিক পর্যটন চালু করবেন। তাদের মহাকাশযান বছরে ৪০০ বার মহাকাশে ভ্রমণ ইচ্ছুক পর্যটকদের আনা-নেয়া করবে। ইতিমধ্যে ৬০টি দেশের ধনাঢ্য ব্যক্তিরা ৬০০ টিকেট কিনে নিয়েছেন। মাত্র ৪ থেকে ৫ মিনিটের জন্য ভরশূন্যতার অভিজ্ঞতা উপভোগ করার এমন একটি টিকেট হাতে পেতে গুনতে হবে দুই থেকে আড়াই লাখ মার্কিন ডলার।

এদিকে বিশ্বখ্যাত আমাজানের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস মোটেই পিছিয়ে নেই। আগামী ২০ জুলাই পৃথিবী থেকে ১০০ কিমি দূরত্বে কার্মান লাইন ছুঁয়ে মাত্র চার মিনিটের জন্য ভরশূন্যতা উপভোগ করতে তিনিও পাড়ি জমাবেন মহাশূন্যে। তাঁর প্রতিষ্ঠানটির নাম হচ্ছে ব্লু অরিজিন। রকেটের নামকরণ করা হয়েছে মার্কিন নভোচারী অ্যালেন শেফার্ড-এর নামে। অ্যালেন শেফার্ড (১৯২৩-১৯৯৮) ছিলেন ১৯৬১-তে প্রথম মার্কিন নভোচারী এবং ১৯৭১-এ চাঁদের মাটিতে পা রাখা পঞ্চম ব্যক্তি। ব্লু অরিজিন ইতিমধ্যে মহাকাশ ভ্রমণের জন্য টিকেট বিক্রি শুরু করেছে। প্রথম টিকেটটি বিক্রি হয়ে গেছে ২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারে। এমনিতে টিকেটের মূল্য হচ্ছে ২ থেকে ৩ লাখ ডলার।

স্পেসএক্স-এর ধনাঢ্য কর্ণধার ইলন মাস্ক দিন তারিখ প্রায়ই ঠিক করে ফেলেছেন, এ বছর ১৫ সেপ্টেম্বরের পর একদিন তাঁর মহাকাশযান ক্রু ড্রাগন উড়াল দেবে। তবে অন্যদের টেক্কা দিয়ে, পর্যটকরা মহাকাশে পৃথিবীর কক্ষপথে থাকবেন গুনে গুনে তিনদিন। আর ৫৪০ কিমি (৩৩৬ মাইল) উচ্চতায় পৌঁছাবে সে নভোযান। প্রথম যাত্রায় থাকছেন মাত্র চারজন। এর মধ্যে একজন অর্থের বিনিময়ে এমন অপার্থিব আনন্দ উপভোগ করবেন, তিনি হচ্ছেন ৩৮ বছর বয়সী নামকরা বৈমানিক জারেড আইজ্যাকম্যান। বাকি তিনজন হচ্ছেন দানবীর। একটি শিশু হাসপাতালের জন্য যাঁরা দান করেছিলেন তাঁদের মধ্যে থেকে এই তিনজনকে বাছাই করা হয়েছে। ক্রু ড্রাগনের আরামদায়ক কেবিনে একটি আসন পেতে গুনতে হবে সাড়ে তিন কোটি থেকে সাড়ে চার কোটি ডলার। বর্তমানে মহাশূন্যে ভ্রমণ ইচ্ছুকদের টিকেট কিনতে এক-এর পিছনে অনেকগুলো শূন্য যোগ করতে অর্থাত্ বিশাল অংকের অর্থ গুনতে হচ্ছে।

শেষ পর্যন্ত সত্যি সত্যিই ২০২১ সাল থেকেই মহাকাশে পর্যটনের দুর্গম যাত্রার শুভ সূচনা হলো। মানুষ এখানেই থেমে নেই। তারা আজ মহাশূন্যে আনন্দ ভ্রমণ করছে। কিছুদিন পর চাঁদে অবকাশ কাটাতে যাবে। একদিন খবর আসবে, মহাকাশে বা চাঁদে প্রথম বিয়ে, জন্মদিনের উত্সব।