ঐতিহ্য সংরক্ষণে চাই সুষ্ঠু পরিকল্পনা

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২১, ২১:২৮

নান্দনিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম শহর চট্টগ্রাম। বলা হতো প্রাচ্যের রানি। চট্টগ্রামে পাহাড়, সমতল, নদী, সমুদ্র সবকিছুর সম্মিলনে একাকার। অথচ চট্টগ্রামের সঙ্গে জলাবদ্ধতার সম্পর্কের গভীরতা যুগ যুগ ধরে। ভারী বর্ষণে তলিয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম নান্দনিকতা হারায়। একদিকে জোয়ারের পানি, অন্যদিকে বৃষ্টির পানি; উভয়টি মিলে নগরবাসীর জীবনাচারে যেন নাভিশ্বাস। এই যখন অবস্থা চট্টগ্রামের, তখন শ্বাসটাও বন্ধ করতে নেওয়া হয়েছে চট্টগ্রামের ফুসফুসখ্যাত কেন্দ্রীয় রেলওয়ে ভবন (সিআরবি) এলাকায় হাসপাতাল তৈরির প্রকল্প।

১৮৯৫ সাল থেকে তত্কালীন ব্রিটিশ বেঙ্গল রেলওয়ের সদর দপ্তর এবং বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সদর দপ্তর সিআরবি। ব্রিটিশ আমল থেকেই এই সিআরবি অনন্য সুন্দর ও প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘেরা একটি ঐতিহাসিক এলাকা। সবুজে ঘেরা সারি সারি বৃক্ষের রাজপ্রাসাদ। কোনো গাছের বয়স ১০০, কোনোটির বয়স ততোধিক।

ঐতিহ্যমণ্ডিত বৃক্ষরাজিবেষ্টিত সিআরবি এলাকায় শত শত মানুষ বিকালে ঘুরতে যায়, সকালে শরীরচর্চার জন্য হাঁটতে যায়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যনির্ভর এই স্থানগুলোতে একটুখানি নিঃশ্বাস নেওয়ার জায়গা ছিল ডিসি হিল, ফয়’স লেক আর সিআরবি। ডিসি হিল, ডিসিদের আওতায়। ফয়’স লেক দিয়ে দেওয়া হয়েছে বেনিয়াদের হাতে; যারা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এলাকাটিকে সম্পূর্ণ নিজের সম্পত্তিতে পরিণত করেছে। এবার সিআরবি ধ্বংসের নীলনকশা তৈরি ও যৌক্তিকতা দেখাতে ব্যস্ত তারা।

তথ্যটি এতদিন আড়ালে থাকলেও সম্প্রতি সিআরবি এলাকায় ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ সাইনবোর্ড লাগিয়ে হাসপাতাল নির্মাণের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে চট্টগ্রামের পরিবেশবাদীরা। সব শ্রেণি পেশার মানুষ এই হাসপাতাল নির্মাণের বিরোধিতা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেছে। এটি ছিল হূদয়ে জায়গা করে নেওয়া সিআরবির প্রতি ভালোবাসার কিঞ্চিত্ আন্দোলন! সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হতে পারে সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন পেশাজীবীদের সমন্বয়ে বৃহত্ আন্দোলন। এটি কোনো মতে উচিত হবে না। এক জন স্বেচ্ছাসেবী, সমাজকর্মী হিসেবে আশাকরি ইতিহাস, ঐতিহ্যের এই বৃক্ষপ্রাসাদ সংরক্ষণের সুষ্ঠু পরিকল্পনা ফিরিয়ে আনবে সর্বমহলে স্বস্তি।

মুহাম্মদ নুর রায়হান চৌধুরী

স্বেচ্ছাসেবী ও সমাজকর্মী