শিশু নির্যাতন হলো বিশেষত বাবা-মা বা অন্য কোনো অভিভাবক দ্বারা কোনো শিশুর প্রতি শারীরিক, যৌন বা মানসিক দুর্ব্যবহার করা বা শিশুকে অবহেলা করা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সব ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, যৌন নির্যাতন, অবহেলা বা বাণিজ্যিক বা অন্য কোনোভাবে শোষণ করা, যার ফলে শিশুর জীবনে হুমকি তৈরি হয় ।
বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে, পরস্ফুিট হয়েছে উন্নয়নের জোয়ার। কিন্তু শিশু নির্যাতন রোধে সরকারের প্রয়াস আলোর মুখ দেখেনি। বলা হয়ে থাকে, বর্তমান সরকার শিশুবান্ধব। তাহলে প্রশ্ন হলো, নির্যাতনের পরিসংখ্যানগুলো কি নিছকই ভিত্তিহীন? মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত শিশুর প্রতি ১ হাজার ৩৯টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের অন্য আরেকটি হিসাব মতে, ২০১৯ সালে সহিংসতার ঘটনা ছিল ২ হাজার ১৮৪টি। আগের বছর ২০১৮ সালে যা ছিল ১ হাজার ৫৩২টি। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে গত পাঁচ বছরে ৩০ হাজার ২৭২টি মামলা হয়েছে। এ ব্যাপারে সাধারণ জনগণের মধ্যে বিস্তর সচেতনতা বাড়াতে হবে। মনে রাখা প্রয়োজন, শিশু নির্যাতন বন্ধে অনেক আইন ও বিধিমালা রয়েছে। তবে শুধু আইনের প্রয়োগ করে শিশু নির্যাতন দমন করা সম্ভব নয়। শিশু নির্যাতন বন্ধে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন শিশু নির্যাতন বন্ধে যাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে, এ ব্যাপারে সার্কুলার জারি করা যেতে পারে। শিশু পাচার রোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফলপ্রসূ ভূমিকা প্রত্যাশিত। সাতটি বিভাগীয় শহরে শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ সেল গঠন করতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। শিশু নির্যাতিত হওয়ার পর যথাযথ চিকিত্সার বন্দোবস্ত করতে হবে। বিচারের দীর্ঘসূত্রতায় যাতে অপরাধীরা পার পেয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি শিশু নির্যাতন রোধে সরকারের দ্রুত ও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশিত।
আবদুর রহমান জামী
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
