দিনাজপুরে ধানের দাম বৃদ্ধি পূরণ হচ্ছে না বোরো সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২১, ২১:৩১

মতিউর রহমান, দিনাজপুর

ধানের জেলা দিনাজপুরে বাজারে ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় কমেছে সরকারি বোরো সংগ্রহ অভিযানের গতি। সংগ্রহ অভিযান শুরুর দীর্ঘ দুই মাসে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৭৩ শতাংশ চাল ও ধান সংগ্রহ করতে পেরেছে খাদ্য বিভাগ। বাজারে ধানের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ কমে যাওয়ায় অবশিষ্ট সময়ে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সংশয় দেখা দিয়েছে। এদিকে বাজারে ধানের সরবরাহ কমে যাওয়ায় গত দুই সপ্তাহ থেকে বাড়তে শুরু করেছে ধানের দাম। গত সপ্তাহে দিনাজপুরের অন্যতম বৃহত্ ধানের হাট সদর উপজেলার গোপালগঞ্জে গিয়ে দেখা যায়, দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি বস্তা (৭৫ কেজি) ধানের দাম বেড়েছে প্রকারভেদে ২৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। দুই সপ্তাহ আগে হাইব্রিড মোটা জাতের ধান প্রতি বস্তা (৭৫ কেজি) ১ হাজার ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৯৫০ টাকায়, বিআর-২৮ জাতের ধান ২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ২২০ টাকায় এবং সম্পা কাটারী জাতের ধান ২ হাজার ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাহিদা থাকলেও বাজারে ধানের সরবরাহ কমে যাওয়ায় এই দাম বেড়েছে বলে জানান ধান ক্রেতারা।

বাজারে ধানের দামের এই ঊর্ধ্বগতিতে দিনাজপুর জেলায় সরকারি বোরো সংগ্রহ অভিযান পুরোপুরি সফল নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মিলমালিক জানান, যেভাবে ধানের দাম বাড়ছে, তাতে এই দামে ধান কিনে খাদ্য বিভাগের কাছে চাল সরবরাহ করতে লোকসান গুনতে হবে তাদের। এ জন্য খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলেও অনেক মিলমালিক পুরোপুরি চাল দিতে না পারায় এখন রয়েছে সংশয়ের মধ্যে। দিনাজপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এস এম সাইফুল ইসলাম জানান, দিনাজপুর জেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ৪০ টাকা কেজি দরে ৯১ হাজার ম্যাট্রিক টন সিদ্ধ চাল, ৩৯ টাকা কেজি দরে ৭ হাজার টন আতপ চাল এবং ২৭ টাকা কেজি দরে ২৪ হাজার টন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। চাল সংগ্রহের জন্য জেলার ১ হাজার ৮০০ মিলমালিক চুক্তিবদ্ধ হয় খাদ্য বিভাগের সঙ্গে। গত ৮ মে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সংগ্রহ অভিযান শুরুর পর গত সোমবার পর্যন্ত ৯১ হাজার টনের স্থলে ৬৮ হাজার টন সিদ্ধ চাল, ৭ হাজার টনের মধ্যে ৩ হাজার টন আতপ চাল এবং ২৪ হাজার টনের মধ্যে ১৮ হাজার ৫০০ টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৭৩ শতাংশ। আগামী আগস্ট মাস পর্যন্ত এই সংগ্রহ অভিযান চলবে এবং এরই মধ্যে সংগ্রহ অভিযান পুরোপুরি সফল হবে বলে আশা করেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক।