চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
আর মাত্র তিন দিন পরেই পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গরুর হাটগুলোতে প্রচুর দেশীয় গরুর আমদানি শুরু হয়েছে। স্থানীয় গ্রাহক থাকলেও করোনা পরিস্থিতিতে বাইরে থেকে ব্যাপারী কম আসায় দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে গরু বিক্রেতাদের মধ্যে। এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও ক্রেতারা তা মানছেন না।
জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে হাট ইজারদারদের গরুর হাট চালুর নির্দেশনা দিয়েছেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে জেলার পাঁচটি উপজেলায় ছোট-বড় সবমিলিয়ে ২২-২৩টি গরুর হাটে বেচাকেনা শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালুর নির্দেশনা দেওয়া হলেও হাটগুলোতে মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্বসহ স্বাস্থ্যবিধি। এ প্রসঙ্গে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, হাটগুলোতে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে না পারলে করোনা সংক্রমণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরেজমিনে শিবগঞ্জ উপজেলার বৃহত্তম তর্ত্তীপুর ও কানসাট গরুর হাট ঘুরে দেখা যায়, হাটে দেশি গরুর আমদানি বেশি। কানসাট গরুর হাটে গরু কিনতে আসা আসাদুল আলম জানান, চলতি বছর গরুর দাম বেশি। করোনার কারণে দাম বেশি দিয়ে গরু কিনেছি। কানসাটের গরু বিক্রেতা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, তার দুটি গরু ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। অন্যদিকে শ্যামপুরের খামারি রশিদুল হক জানান, ইতিমধ্যেই তার ২০টি গরু বিক্রি করা হয়ে গেছে।
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার বৃহত্তম গরুর হাট বটতলায় গরুর আমদানি থাকলেও গরু তেমন বিক্রি শুরু হয়নি। ক্রেতাদের আনাগোনা থাকলেও দামদর করে অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন। বটতলা গরুর হাটের ইজারাদার মো. শরিফুল ইসলাম জানান, আগামী দুই দিন হাট রয়েছে, আশা করা যায় বিক্রি বাড়তে পারে। হাট প্রসঙ্গে মনাকষা ও তর্ত্তিপুর হাট ইজারাদার মো. মোজাম্মেল হোসেন ও মো. ডালিম হোসেন জানান, ঈদ ঘনিয়ে এলেও এখনো হাট জমে উঠেনি। আর বেশি টাকায় হাট ইজারা নেওয়ায় আসল টাকা উঠবে কি না, সন্দেহ রয়েছে। এদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কৃষিবিদ ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ বছর জেলায় ঈদুল আজহায় কোরবানি পশুর চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার। এর বিপরীতে জেলার পাঁচ উপজেলায় ছোট বড় ও পরিবারিকভাবে মিলিয়ে ১৩ হাজার ১৬২টি খামারে ১ লাখ ৬৩ হাজার ১৮৬টি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজ জানান, স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে ঈদের আগের রাত পর্যন্ত জেলার সব গরুর হাটে মানুষ গবাদি পশু বেচাকেনা করতে পারবেন। তিনি আরো বলেন, পশুর হাটগুলোতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে।
