ডোমার (নীলফামারী) সংবাদদাতা
ডোমার উপজেলায় দিন দিন কমছে তৈলবীজ ফসল তিল চাষ। পোকার আক্রমণ ও অন্যান্য ফসলের চেয়ে তিল চাষে লাভ কম হওয়ায় কৃষকরা দিন দিন তিল চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এক মিটার পর্যন্ত লম্বা হওয়া উদ্ভিদ জাতীয় তিল গাছে সাধারণত চারদিকে ছোট ছোট শাখায় বিস্তার লাভ করে। পাতার গোড়ায় সাদা বা গোলাপি ফুল হয়। ফলগুলো চার অথবা অধিক প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট ক্যাপসুলের মতো। পাকলে সেগুলো থেকে বহু ক্ষুদ্র বীজ বের হয়। বীজগুলোর আবরণ কালো। সাধারণত বীজ থেকে খাদ্যোপযোগী তেল পাওয়া যায়। তেলকল বা ঘানির মাধ্যমে বীজ থেকে তেল নিষ্কাশন করা হয়।
কৃষকরা জানান, মাঠ পর্যায়ে তিল ফসলের কয়েকটি ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ দ্বারা আক্রান্ত হয়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য তিল হক-মথ এবং শুঁয়ো পোকা। এছাড়াও একটি মিরিড বাগও এ শস্যের ক্ষতি করে। ফলে তিলের ফলন কমে যায়। অন্যদিকে তিল চাষ থেকে অন্য ফসল চাষ লাভজনক হওয়ায় উপজেলায় তিল চাষ কমছে।
হরিণচড়া ইউনিয়নের তিলচাষি সফিকুল ইসলাম বলেন, আমার ৫০ শতাংশ জমিতে সরকারের প্রণোদনার আওতায় প্রদর্শনী করা হয়েছে। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে ফলন ভালো হবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আনিছুজ্জামান জানান, তিল চাষ থেকে অন্যান্য ফসল চাষ অধিক লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা এ চাষ থেকে আগ্রহ হারাচ্ছেন। আমরা প্রণোদনার আওতায় কৃষকদের বিনামূল্যে তিলবীজ ও সার দিয়েছি। ৫০ শতক জমিতে প্রদর্শনী প্লট তৈরি করা হয়েছে। এবারে উপজেলায় প্রদর্শনী প্লট ছাড়াও নিজ উদ্যোগে প্রায় দুই একর জমিতে তিল চাষ হয়েছে। তিল ভালো ফলন হলে প্রতি বিঘায় সাত-আট মণ ফলন হয়।
