লিটন দাস :সিলেট টু হারারে

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২১, ২১:৪৩

১৫৫ রানে জিতল বাংলাদেশ

জান-ই-আলম

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই প্রতিভাবান ব্যাটসম্যানের ‘ট্যাগ’ লেগে আছে লিটন কুমার দাসের নামের পাশে। ঘরোয়া ক্রিকেটে রানের ফল্গুধারা বইয়ে দেওয়া ঈর্ষণীয় ফর্ম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনুবাদ করতে পারছিলেন না তিনি। শুরুর ১৭ ওয়ানডেতে ছিল না হাফ সেঞ্চুরিও। অধিনায়ক থাকাকালীন তাকে নিয়ে অনেক টীকা-টিপ্পনী শুনতে হয়েছিল মাশরাফি বিন মুর্তজাকে।

অভিষেকের (২০১৫) তিন বছর প্রতিভার চূড়ান্ত বিচ্ছুরণ দেখা যায় লিটনের ব্যাটে। ২০১৮ এশিয়া কাপ ফাইনালে দুবাইয়ে ভারতের বিরুদ্ধে ক্যারিয়ারের প্রথম পঞ্চাশ ছাড়ানো ইনিংসটাকে সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়েছিলেন তিনি। তারপর ছন্দটাও ধরে রেখেছিলেন। করোনা যুগের প্রাক্কালে গত বছর ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে অসামান্য ধারাবাহিকতা দেখায় লিটনের ব্যাট। সিলেটে জোড়া সেঞ্চুরিতে তিন ম্যাচে ৩১১ রান করেন তিনি। শেষ ওয়ানডেতে নিজের ও বাংলাদেশের হয়ে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৭৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন।

অমন সিরিজের পর আবারও ছন্দপতন। সর্বশেষ ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ ম্যাচে তো একাদশ থেকেই বাদ পড়েন রান খরার কারণে। ৮ ইনিংসে ১০১ রান, সর্বোচ্চ মাত্র ২৫, যার মধ্যে তিনবার শূন্য রানেও আউট হয়েছিলেন।

ওয়ানডে দলে তার নড়বড়ে জায়গাটা ‘লাইফলাইন’ পেল মুশফিকুর রহিম পারিবারিক কারণে জিম্বাবুয়ে থেকে দেশে ফেরায়। গতকাল ওপেনিংয়ে লিটনের প্রতি আস্থা রেখেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। অধিনায়ক, কোচের ভরসা বৃথা যায়নি। দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন লিটন। চাপের মুখে করেছেন অনবদ্য সেঞ্চুরি। ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সেঞ্চুরির মহাত্ম্য অপরিসীম।

ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরির দিনে দলকে খাদের কিনার থেকে উদ্ধার করে লড়াকু পুঁজি এনে দিয়েছেন লিটন। দলের বিপদে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে ১১৪ বলে ৮টি চারে ১০২ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। গতকাল তার সেঞ্চুরিতেই বাংলাদেশ ৯ উইকেটে ২৭৬ রান তুলেছিল।

জিম্বাবুয়েকে নিজের প্রিয় প্রতিপক্ষ ঘোষণা করতেই পারেন লিটন দাস। ডান হাতি এ ওপেনারের চার সেঞ্চুরির তিনটিই আফ্রিকার দলটির বিরুদ্ধে। জিম্বাবুয়ে মানেই তার ব্যাটে রানের জোয়ার। সিলেট থেকে হারারে, প্রতিপক্ষ একই, লিটনের সেঞ্চুরির সংখ্যা তিন থেকে চারে উন্নীত হলো।

গতকাল ৭৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে কাঁপছিল বাংলাদেশ। সতীর্থদের আসা-যাওয়া দেখতে দেখতে একপ্রান্ত আগলে খেলেছেন লিটন। ৫ম উইকেটে মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে ৯৩ রানের জুটি গড়ে দলকে বিপদমুক্ত করেন। আফিফের সঙ্গেও ৪০ রানের জুটি গড়েন। উইকেট পতনের ধারা চলমান থাকায় শুরুতে কিছুটা ধীরলয়ে খেলেছেন, ৭৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন। পরের পঞ্চাশ করেছেন ৩২ বলে। সেঞ্চুরির পরই আউট হন ২৬ বছর বয়সি ওপেনার।

ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের পক্ষে সাকিব ১৯, মিঠুন ১৯, মোসাদ্দেক ৫, মাহমুদউল্লাহ ৩৩, আফিফ ৪৫, মিরাজ ২৬, সাইফউদ্দিন অপরাজিত ৮ রান করেন। জিম্বাবুয়ের লুক জঙ্গিয়ে তিনটি, মুজারাবানি-এনাগারাবা দুটি করে উইকেট পান।

পরে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৮.৫ ওভারে ১২১ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশ ১৫৫ রানে জয় পেয়েছে। সাকিব ৩০ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন। লিটন দাস ম্যাচ সেরা হন।