পাঁচ দিন পর ২০০-এর নিচে নামলো মৃত্যু

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২১, ২২:২৯

দেশে টানা পঞ্চম দিনের মতো ২৪ ঘণ্টায় ১২ হাজারের বেশি কোভিড রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে পাঁচ দিন পর মৃত্যু নেমে এসেছে ২০০র নিচে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১২ হাজার ১৪৮ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে আরো ১৮৭ জনের।

নতুন রোগীদের নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৮৩ হাজার ৯২২ জন। তাদের মধ্যে ১৭ হাজার ৪৬৫ জনের প্রাণ গেছে। ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে কঠোর লকডাউনের মধ্যে গত ১২ জুলাই দেশে প্রথমবারের মতো এক দিনে ১৩ হাজারের বেশি নতুন রোগী ধরা পড়ে। সেদিন থেকে টানা পাঁচ দিন হলো শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১২ হাজারের বেশি থাকছে। আর ১১ জুলাই এক দিনে রেকর্ড ২৩০ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেদিন থেকে টানা পাঁচ দিন দৈনিক মৃত্যু ছিল ২০০র বেশি। শুক্রবার তা কমার খবর এলো। আগের দিন           বৃহস্পতিবার ১২ হাজার ২৩৬ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছিল; মৃত্যু হয়েছিল ২২৬ জনের। সরকারি হিসাবে গত এক দিনে আরো ৮ হাজার ৫৩৬ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৯ লাখ ১৪ হাজার ৩৪৩ জন।

অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাতে রোগী শনাক্তের হার ২৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ। আর এখন পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৫ দশমিক শূন্য আট শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ আর শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুহার এক দশমিক ৬১ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা সংগৃহীত হয়েছে ৪৫ হাজার ৪৫টি আর নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৪১ হাজার ৯৪৭টি। দেশে এখন পর্যন্ত করোনার মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৭১ লাখ ৮৬ হাজার ৩৬৭টি। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ৫২ লাখ ৭০ হাজার ৭৪০টি আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ১৯ লাখ ১৫ হাজার ৬২৭টি।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাতে মারা যাওয়া ১৮৭ জনের মধ্যে পুরুষ ১১৩ জন আর নারী ৭৪ জন। তাদের নিয়ে দেশে করোনাতে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত পুরুষ মারা গেলেন ১২ হাজার ১৬৬ জন আর নারী মারা গেলেন ৫ হাজার ২৯৯ জন। তাদের মধ্যে বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে অধিদপ্তর জানিয়েছে, ১৮৭ জনের মধ্যে ১০০ বছরের ঊর্ধ্বে রয়েছেন এক জন, ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে রয়েছেন চার জন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে আছেন ১২ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৩০ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৫৪ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৩৬ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩০ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১১ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে সাত জন আর ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে রয়েছে দুই জন। তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের আছেন ৬৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৩৬ জন, রাজশাহী বিভাগের ১৪ জন, খুলনা বিভাগের ৩৯ জন, বরিশাল বিভাগের আট জন, সিলেট বিভাগের ৯ জন, রংপুর বিভাগের ছয় জন আর ময়মনসিংহ বিভাগের রয়েছেন সাত জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, মারা যাওয়া ১৮৭ জনের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন ১৪৭ জন, বেসরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন ২৮ জন আর বাড়িতে মারা গেছেন ১২ জন।