ঝুঁকি এড়াতে আগেভাগেই হাটে আসছেন ক্রেতারা

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২১, ২২:৪৭

যাদের বাড়িতে পর্যাপ্ত জায়গা আছে তাদের অনেকেই এবার আগেভাগেই কোরবানির পশু কিনতে শুরু করেছেন। করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি হঠাত্ করেই আরো বাড়ে কি না, কিংবা টানা ১৪ দিনের লকডাউন ছাড়ার পর মাত্র পাঁচ-ছয় দিনের মধ্যে রাজধানীর হাটগুলোতে গরুর আমদানি কতটা হবে? এরকম নানা বিষয়কে মাথায় রেখে গতকাল শুক্রবার থেকেই রাজধানীর অনেক হাটে ক্রেতারা কোরবানির পশু কিনতে শুরু করেছেন। যদিও আজ শনিবার থেকে ঢাকা সিটি করপোরেশনের ২১টি হাটে আনুষ্ঠানিকভাবে কোরবানির পশু বিক্রি শুরু হবে।

গতকাল রাজধানীর সবচেয়ে বড় হাটগুলোর মধ্যে অন্যতম গাবতলীর হাটে গিয়ে দেখা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা এসেছেন। তারা ঘুরে ঘুরে গরু দেখছেন, দরদাম করছেন। এমনি একজন ক্রেতা জয়নাল আবেদিন। তিনি এসেছেন, কেরানীগঞ্জ থেকে। সঙ্গে তার ভাই ও ছেলে। কিনবেন ছয়টি গরু। জানালেন, দাম যাই হোক—তিনি প্রতি বছর গরু কেনেন ঈদের আগের দিন। কিন্তু এবার আগেভাগেই কিনবেন। কারণ, হাটে ভিড় বেড়ে গেলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকবে। এছাড়া লকডাউন ছাড়ার পর এই কয়দিনে হাটে গরুর আমদানি কেমন হবে বুঝতে পারছি না। তাই এবার আগেভাগেই গরু কিনতে এসেছি।

১ লাখ ৮ হাজার টাকায় একটি গরু কিনেছেন মোহাম্মদপুরের নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, এতো আগে কখনোই তার কোরবানির গরু কেনা হয়নি। হাটে এসেছি, গরুও পছন্দ হয়েছে। তাই কিনে ফেললাম। তিনি বলেন, বাড়িতে যেহেতু রাখার জায়গা আছে, তাই কোনো সমস্যা হবে না।

রাজধানীর হাটগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মূলত বুধবার রাত থেকেই হাটগুলোতে গরু আসতে শুরু করেছে। এরপর গত দুই দিনে প্রচুর পরিমাণে গরু এসেছে।   গতকাল রাজধানীর রাস্তায় গরুভর্তি অনেক ট্রাক দেখা গেছে। যাদের গন্তব্য হাটগুলো। ব্যাপারীরা জানিয়েছেন, প্রতি বছর এ সময় হাটে যে পরিমাণ গরুর আমদানি হয়, এবার এখনো তা হয়নি। তবে গরু আসতে শুরু করেছে। হাটগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে গরুর আমদানি হবে বলে তারা জানান। মেরাদিয়া আফতাবনগর হাটের ব্যাপারী কুষ্টিয়ার আমিনুল বলেন, লকডাউনের কারণে এবার হাটগুলোতে আগেভাগে গরু আনা যায়নি। তবে দুই-এক দিনের মধ্যে হাটগুলো গরুতে ভরে যাবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হাটে এখনো সেভাবে কেনাবেচা শুরু হয়নি। যা হচ্ছে টুকটাক। তবে অনেকেই আসছেন গরু দেখতে।

গতকাল বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা যায়, ব্যাপারীরা গরু পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। ছোট, মাঝারি থেকে বিশাল আকারের গরু দেখা গেছে হাটগুলোতে। গাবতলী হাটে কুষ্টিয়া থেকে বিশাল আকারের এক গরু নিয়ে এসেছেন তরুণ নারী উদ্যোক্তা রিনা। অনেক গরম পড়ায় গরুর শরীরে তিনি পানি ছিটাচ্ছিলেন। তরুণ এই উদ্যোক্তা বলেন, আমার আদরের এই গরুর নাম ‘খাজাবাবা’। ডাকনাম ‘মনু’। তিনি বলেন, অনেক কষ্ট করে, পরিশ্রম করে নিজের পরিবারের একজন সদস্যের মতো করে মনুকে বড় করেছি। দাম কত চাইছেন জিগ্যেস করতে জানালেন, ২০ লাখ টাকা চাচ্ছি। তবে দরদাম করা যাবে। তিনি বলেন, কোনো সহূদয় মানুষ যদি আমার গরুটির নায্যদাম দিত তাহলে আমার সংসারের অভাব, অনটন কিছুটা হলেও দূর হতো। হাটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, হাটের ভেতরে স্বাস্থ্য সুরক্ষার তেমন ব্যবস্থা নেই। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে রক্ষায় হাত ধোয়া ব্যবস্থা খুব বেশি নেই।

এদিকে এবার করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সরকার ডিজিটাল হাট থেকে গরু কিনতে ক্রেতাদের উত্সাহিত করছে। ডিজিটাল হাট শুরুর পর গত দুই সপ্তাহে এই হাট থেকে আড়াই লাখের বেশি গরু বিক্রি হয়েছে। এছাড়া অনেক ক্রেতা খামার থেকেও গরু কিনছেন।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে সারা দেশে ২৪১টিরও বেশি অনলাইন পশুর হাট থেকে কোরবানির পশু বিক্রি হচ্ছে। এর বাইরেও ব্যক্তি উদ্যোগে অনেক ফেসবুক পেজ থেকেও কোরবানির পশু বিক্রি করা হচ্ছে। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে মূলত গত বছর থেকেই অনলাইনে পশু বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে। কিন্তু এ বছর এখন পর্যন্ত গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি পশু অনলাইন থেকে বিক্রি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মত্স্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ রোধে আমাদের জনসমাগম থেকে দূরে থাকতে হবে। এ বাস্তবতায় বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ডিজিটাল হাট সময়োপযোগী উদ্যোগ। এ বছর মোট কোরবানির পশুর ২৫ শতাংশ ডিজিটাল ব্যবস্থায় বিপণনের লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি। এদিকে কোরবানি নিয়ে কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা মেনে নেওয়া হবে না জানিয়ে মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেছেন, কোরবানির হাটবাজারে যাতে চাঁদাবাজি বা ডাকাতি না হয় এজন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কোরবানির পশু পরিবহনের পথে হয়রানি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।