ইত্তেফাক রিপোর্ট
ঈদের পর ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত পুনরায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের সময় কল-কারখানা চালু রাখার দাবি জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। তাদের দাবি কোভিডজনিত বিধিনিষেধের আওতায় সব প্রকার শিল্পকারখানা বন্ধ রাখা হলে অর্থনৈতিক কার্যক্রমের প্রাণশক্তি উত্পাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। সেইসঙ্গে সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বিঘ্নিত হবে। এতে উত্পাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে খাদ্যসামগ্রী, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, বোতলজাত পানীয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ইত্যাদি উত্পাদন বন্ধ থাকলে ভোক্তারা সমস্যার সম্মুখীন হবেন। পণ্যসামগ্রী সঠিকভাবে সরবরাহ ও বাজারজাত না হলে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাবে। এতে স্বল্প আয়ের ক্রেতারা ভোগান্তির শিকার হবেন। উত্পাদন ব্যবস্থা বন্ধ থাকলে বাতিল হতে পারে রপ্তানি আদেশও। এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কল-কারখানা খোলা থাকবে কি না, সে বিষয়ে আজ শনিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএসহ পাঁচটি সংগঠনের পক্ষ থেকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাত্ করে পোশাকশিল্প-কারখানা খোলা রাখার দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ, প্লাস্টিক গুড্স মেনুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ টেরি-টাওয়েল মেনুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ রপ্তানি ও উত্পাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনসমূহ ও চেম্বারসমূহ শিল্প-কারখানার উত্পাদন কার্যক্রম সচল রাখার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের প্রতিও অনুরোধ জানিয়েছে।
এদিকে শিল্পকারখানাকে বিধিনিষেধের আওতার বাইরে রেখে উত্পাদন প্রক্রিয়াকে চলমান রাখার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, রপ্তানি খাতের উত্পাদন ব্যবস্থা বন্ধ থাকলে সময়মতো পরবর্তী রপ্তানি অর্ডার অনুযায়ী সাপ্লাই দেওয়া সম্ভব হবে না। এতে রপ্তানি অর্ডার বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এক মাসের রপ্তানি শিডিউল বিঘ্নিত হলে পরবর্তী ছয় মাসের রপ্তানি শিডিউলে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সেইসঙ্গে উত্পাদন বন্ধ থাকলে আমদানিকৃত কাঁচামাল অব্যবহূত হয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এতে আমদানিকারক ও উত্পাদক উভয়ই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এছাড়া ক্ষুদ্র ও ছোট কারখানাসমূহ বন্ধ রাখা হলে উদ্যোক্তাগণ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং কারখানাসমূহ পুনরায় চালু রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, কোভিড বিস্তার রোধে জারিকৃত বিধিনিষেধ সংক্রান্ত সার্কুলারে ওষুধ কারখানা বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। যদি ওষুধ কারখানা বন্ধ রাখা হয় তবে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হবে। অন্যদিকে ট্যানারি কারখানা বন্ধ রাখা হলে কোরবানি ঈদে সংগৃহীত চামড়া সংরক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হবে। জীবন ও জীবিকার মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে সচল রাখতে উত্পাদন ব্যবস্থাকে চলমান রাখা জরুরি বলে তিনি দাবি করেন।
