ইত্তেফাক রিপোর্ট
করোনা মহামারির মধ্যে আজ শনিবার সীমিত পরিসরে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে সৌদি আরবে শুরু হচ্ছে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা। বহির্বিশ্বের কেউ সুযোগ না পেলেও সৌদিতে থাকা ১৫০টি দেশের নাগরিকসহ এবার হজে অংশ নিচ্ছেন ৬০ হাজার মুসল্লি। হজ সম্পাদনে এবার তাদের ব্যবহার করতে হবে স্মার্ট কার্ড।
সৌদির স্থানীয় সময় আজ সন্ধ্যায় মক্কায় পৌঁছাবেন এবার অনুমতি পাওয়া হজযাত্রীরা। মক্কা, আরাফা, মিনা ও মুজদালিফায় চলাচলে হাজিদের জন্য প্রস্তুত রয়েছে ৩ হাজার বাস। থাকছে ৫১টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। ৫৯৪ চিকিত্সক ছাড়াও থাকছেন আরো ৩০০ স্বাস্থ্যকর্মী। হাজিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। করোনা ছাড়া অন্য কোনো রোগ আছে কি না তা-ও পর্যালোচনা করা হয়েছে। এমনকি এবার হাজিদের খাবারেও রয়েছে ভিন্নতা। আগেভাগেই খাবার প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে।
সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রথম বারের মতো হাজি এবং তাদের সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের জন্য অত্যাধুনিক স্মার্ট কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। চারটি অভ্যর্থনা কেন্দ্র আল জাইদি, আল নাসিম, আল শারায়েই এবং আল নুরিয়া গেট ছাড়া মসজিদুল হারামে অন্য কোনো স্থান দিয়ে প্রবেশের সুযোগ নেই। স্মার্ট কার্ড ছাড়া কেউ ক্যাম্পেও প্রবেশের সুযোগ পাবেন না। আগামী ১৯ জুলাই সোমবার হজ বা আরাফার দিন। এদিন মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা দেবেন কাবার মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ ড. বানদার বালিলাহ। বাংলাসহ ৯টি ভাষায় অনুবাদ করে প্রচার করা হবে এটি। পরদিন মঙ্গলবার পশু কোরবানি করবেন হাজিরা।
হজ করবেন দুই ডোজ টিকা নেওয়া ব্যক্তিরা
এবার হজ আদায়ের জন্য করোনা ভাইরাসের টিকা গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। টিকার দুই ডোজ নেওয়া ব্যক্তিরাই শুধু এবার হজ করতে পারবেন। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৫ লাখ ৫৮ হাজার আবেদনকারীর মধ্য থেকে মাত্র ৬০ হাজার এবার হজে অংশ নিচ্ছেন। হজের অনুমতি পাওয়া সবাই টিকা নিয়েছেন। তবে বড় ধরনের স্বাস্থ্য জটিলতা নেই, এমন ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সি ব্যক্তিরাই শুধু সুযোগ পেয়েছেন। গতবার মাত্র ১ হাজার মানুষ হজ করতে পেরেছিলেন। যদিও সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, প্রায় ১০ হাজার মানুষ হজ করেছিলেন সেবার। বিশ্বে করোনা শুরুর আগে ২০১৯ সালে সারা বিশ্বের ২৫ লাখ মানুষ হজ করেছিল। এদিকে টানা দুই বার হজ আদায় করতে না পারায় সারা বিশ্বের মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, সামগ্রিকভাবে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে খুব একটা সুবিধাজনক জায়গায় নেই সৌদি আরব। এখন পর্যন্ত সেখানে ৫ লক্ষাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে ৮ হাজারের ওপরে। ভাইরাসের প্রকোপ ঠেকাতে এরই মধ্যে ৩ কোটি মানুষকে টিকা দিয়েছে তারা।
