কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে র্যাব ও বিজিবির সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রোহিঙ্গা ডাকাতসহ দুই মাদক কারবারী নিহত হয়েছেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা, দুইটি দেশীয় তৈরি অস্ত্র, একটি বিদেশি পিস্তল, বিপুল পরিমাণ ম্যাগজিন ও গুলি উদ্ধার করা হয় বলে দাবি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। শুক্রবার ভোররাত ও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পৃথক এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের নলবনিয়া গ্রামের জালাল আহমদের ছেলে লুত্ফর রহমান লুতু ও টেকনাফ জাদিমোড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বশির আহমদের ছেলে হাশেম উল্লাহ। হাশেম ডাকাত ও ইয়াবা কারবারিও। মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
র্যাবের টেকনাফ ক্যাম্পের এএসপি বিমান কুমার কর্মকার জানান, শুক্রবার ভোরে জাদিমোড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাশে পাহাড়ের পাদদেশে ডাকাত দলের মধ্যে গোলাগুলির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় র্যাব সদস্যরা। এসময় ডাকাতদল র্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি করলে র্যাবও আত্মরক্ষার্থে গুলি চালালে এক পর্যায়ে ডাকাতদল পিছু হটতে বাধ্য হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে র্যাব বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ গুলিবিদ্ধ এক রোহিঙ্গা ডাকাতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অপরদিকে ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক আলী হায়দার আল আজাদ জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উখিয়ার নলবনিয়া এলাকায় চিংড়ি ঘেরে মাদককারবারী ও বিজিবির সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এতে লুত্ফর রহমান লুতু নামে এক মাদক কারবারী নিহত হন। এ সময় তার কাছ থেকে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ও একটি দেশীয় তৈরি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে উখিয়াসহ বিভিন্ন থানায় ১২টি মামলা রয়েছে।
তবে নিহতের পরিবারের দাবি, বৃহস্পতিবার বিকালে বিজিবির কয়েক জন সদস্য বাড়িতে গিয়ে লুত্ফুর রহমানকে ধরার চেষ্টা করলে সে দৌড়ে পার্শ্ববর্তী একটি চিংড়ি ঘেরে লাফ দেয়। এ সময় বিজিবি সদস্যরা তার ওপর এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করলে সে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এলাকার অসংখ্য মানুষ এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে বলে নিহতের বড় ভাই মোস্তাক আহমেদ জানান।
