উপনির্বাচন করা নিয়ে মমতার সমালোচনায় শুভেন্দু

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২১, ০০:১৯

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে করোনা পরিস্থিতি বেশ ভয়াবহ। এ অবস্থায় কোনো উপনির্বাচন আয়োজনের সুযোগ নেই বলে মনে করেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। গতকাল শুক্রবার বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলার বৈঠকে শুভেন্দু বলেন, যারা শতাধিক পৌরসভার ভোট করাতে পারে না, তারাই এখন উপনির্বাচনের জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নাম উল্লেখ না করে শুভেন্দু বলেন, কেন এতো তাড়াহুড়ো করছেন তিনি। বিজেপি যদি উত্তরাখণ্ডে বিধায়ক নন, এমন মুখ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে দিতে পারে, তা হলে পশ্চিমবঙ্গে কীভাবে বিধায়ক নন এমন একজন মুখ্যমন্ত্রী কাজ চালিয়ে যান? তৃণমূলের তো ২১২ জন বিধায়ক আছেন। তাদের মধ্যে কেন এক জনকে মুখ্যমন্ত্রী করা হচ্ছে না? প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি বলেই কি?

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে সাতটি বিধানসভা আসনের ভোট বাকি রয়েছে। গত ৫ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা ব্যানার্জি শপথ নিয়েছেন। তাকে আগামী ৫ নভেম্বরের মধ্যে উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে সাংবিধানিক শর্তপূরণ করতে হবে। তাই তৃণমূল নেতৃত্ব দ্রুত উপনির্বাচনের দাবিতে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হচ্ছে। ভবানীপুর বিধানসভা আসন থেকে গত ২১ মে পদত্যাগ করেছেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। সম্ভবত সেই আসনে প্রার্থী হবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা।

‘তৃণমূল পরিচালিত ব্যবস্থায় আস্থা নেই, আদালতে যাব’

বিধানসভার স্পিকারের কাছে আবেদনের পাশাপাশি তৃণমূলে যোগ দেওয়া মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ করতে আদালতেও যাবে বিজেপি। গতকাল স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, দলবদলের ঘটনা গত ১০ বছরে ৫০টি ঘটেছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর করা হয় না।

পূর্ব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বলছি, তৃণমূলের পরিচালিত ব্যবস্থার ওপর আমাদের কোনো আস্থা নেই। আমরা বিজেপির পক্ষ থেকে আইনের আশ্রয় নেব। তথ্য-প্রমাণ জমা দেব। এই ধরনের ঘটনার দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া দরকার। নির্দিষ্ট সময়ে যাতে শুনানি শেষ হয়, তার জন্য আবেদন করব।

এ সময় তিনি গাজলের বিধায়ক দিপালী বিশ্বাসের প্রসঙ্গও টেনে বলেন, বাম পরিষদীয় দল যখন দিপালী বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে অভিযোগ করেছিল, তখন ২৩টি শুনানি হয়। তাও নিষ্পত্তি হয়নি। তাই এই ব্যবস্থার ওপরে আস্থা নেই। তবে স্পিকার এই বিষয়ের শুনানিতে যতবার ডাকবেন, ততবার আসব।