তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের অভাবনীয় সাফল্য

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২১, ১৭:৪২

জহির উদ্দিন মাসুম

 

ভিশন ২০২১ কে সামনে রেখে দেশকে ডিজিটালাইজেশনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে হাই-টেক পার্ক, সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, এবং ডেটা সেন্টার ইত্যাদিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ দেশের তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে একের পর এক কাজ করে যাচ্ছে তারমধ্যে ‘লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ অন্যতম। এর পরিপ্রেক্ষিতে মিলেছে অবিস্মরণীয় সাফল্য এবং সফল আউটসোর্সিং ট্রেনিং এর মাধ্যমে স্বাবলম্বী হচ্ছেন প্রশিক্ষনার্থীরা।

লার্নিং এন্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের মাধ্যমে সারা দেশের তরুণ ও তরুণীদের আইটি প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে গড়ে তোলা হচ্ছে। দেশে ৬৪টি জেলা ও ৪৯২টি উপজেলায় ‘লার্নিং এন্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টে’র কার্যক্রম সফলতার সাথে শেষ হতে চলেছে। বর্তমান প্রজেক্টের আওতায় ৪০ হাজার তরুণ-তরুণীকে দক্ষ মানব সমপদ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে, এই সল্প  সময়ের প্রশিক্ষনে প্রশিক্ষনার্থীরা এই করোনা মহামারীর ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যে ঘরে বসে আয় করেছে ২৭ লাখ মার্কিন ডলার, যা আউটসোর্সিং ইন্ডাস্ট্রিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট এবং ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে ৫০ দিন বা ২০০ ঘন্টার এই প্রশিক্ষণে তরুণদের পাশাপাশি তরুনীদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রতি ব্যাচে অবশ্যই ৩০% নারীদেরকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে যাতে তারা কোন ক্রমেই পিছিয়ে না থাকে।  প্রশিক্ষণ প্রদান শেষে মেন্টরিং ক্লাসের মাধ্যমে প্রশিক্ষনার্থীদেরকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের উপায় হাতে কলমে শিখিয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণার্থীরা প্রশিক্ষণ চলাকালীন সময় থেকেই আয় করতে শুরু করেছেন। ফলে আত্মবিশ্বাসের সাথে সাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তারা। এছাড়াও প্রশিক্ষণ শেষে প্রতিটি ব্যাচের সেরা ২ জন করে ৪ হাজার প্রশিক্ষণার্থীকে একটি করে ল্যাপটপ পুরস্কার দেওয়া হবে। সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ২০১৪ সাল থেকে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছে। অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউট (ওআইআই) এর তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে অনলাইন শ্রমের দ্বিতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী হয়ে উঠেছে। দেশের প্রায় ৬,৫০,০০০ নিবন্ধিত ফ্রিল্যান্সারের মধ্যে প্রায় ৫০০০০০ সক্রিয় ফ্রিল্যান্সার নিয়মিত কাজ করছেন। আইসিটি বিভাগের মতে, এই সকল ফ্রিল্যান্সাররা বছরে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার উপার্জন করছেন। ‘লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টে’র সফল বাস্তবায়নে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

লার্নিং এন্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প-এর উদ্বোধনকালে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছিলেন, ২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজ শুরু করেন। তার সুযোগ্য সন্তান আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ভাইয়ের পরামর্শে ডিজিটাল বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। দেশজুড়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে উচ্চগতির ইন্টারনেট এবং পেমেন্ট গেটওয়ে অবকাঠামো তৈরির ফলেই এখন আমরা ঘরে বসেই দক্ষ মানবসমপদ তৈরির মতো ফ্রিল্যান্সার প্রশিক্ষণের কার্যক্রম অনলাইনে শুরু করা সম্ভব হয়েছে। আইসিটি সেক্টরে ১০ লাখ তরুণ-তরুণী কর্মসংস্থান হয়েছে। এরমধ্যে ৬ লাখ ফ্রিল্যান্সার, প্রায় দুই লাখ সফটওয়্যার টেকনোলজিতে কাজ করছেন। এছাড়া এক লাখেরও বেশি ছেলে-মেয়ে কল সার্ভিস সেন্টারে কাজ করছেন। পাশাপাশি ৫০ হাজারও বেশি ছেলে-মেয়ে ই-কমার্সে কাজ করছেন। মুজিববর্ষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে প্রযুক্তি নির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ‘লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প’-এর মাধ্যমে ৪০ হাজার তরুণকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।