শরীয়তপুরের আলুবাজার ফেরিঘাটে দীর্ঘ যানজট

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২১, ২১:৪৮

পারাপারের অপেক্ষায় গরুবাহী ট্রাক

আসাদ গাজী, ভেদরগঞ্জ (শরীয়তপুর) সংবাদদাতা

পশুবাহী ট্রাক আসতে শুরু করায় শরীয়তপুর-চাঁদপুর নৌ-রুটে নরসিংহপুর আলুর বাজার ফেরিঘাটে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। এই পথে পশুবাহী ট্রাকগুলো চাঁদপুর হয়ে মূলত চট্টগ্রামের দিকে যায়। শনিবার সকালে ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, শত শত যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের বালার বাজার পর্যন্ত সাড়ে তিন কিলোমিটার জুড়ে দুই সারিতে সৃষ্টি হয়েছে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে এই লাইনের দৈর্ঘ্য। এদিকে নরসিংহপুর ঘাটের ওপর চাপ কমাতে দুই কিলোমিটার দূরে খায়ের পট্টি মোড় নামক এলাকায় পুলিশ অপচনশীল মাল বোঝাই গাড়িগুলোকে আটকে দিচ্ছে। সেখানেও অন্তত দুই কিলোমিটার লাইন তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে এ প্রান্তে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার সারিতে প্রায় ১ হাজার যানবাহন নদী পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। সকালে তথ্য সংগ্রহের সময় দেখা যায়, কোরবানির পশুবাহী ট্রাকের সংখ্যাই বেশি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় থাকা গরুগুলো ট্রাকের ভেতর ছটফট করছে। অনেক খামারি ও ব্যবসায়ী নিরুপায় হয়ে হাতপাখা দিয়ে গরুগুলোকে বাতাস করছেন।

যশোর থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী আলম শিকদার, মাগুরার আব্দুল ওহাব, কুষ্টিয়ার আব্দুল গফুরসহ অনেকেই বলেন, তারা লাখ লাখ টাকার গরু নিয়ে ভালো দাম পাওয়ার আশায় চট্টগ্রাম যাচ্ছেন। কিন্তু নরসিংহপুর ঘাটে এসে ফেরির জন্য পাঁচ দিন ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে অধিকাংশ গরু কাহিল হয়ে পড়েছে। কেননা এসব গরু খুব একটা কষ্ট সহ্য করতে পারে না। কুষ্টিয়ার গরু ব্যবসায়ী জিল্লুর রহমানসহ অনেকেই জানান, লাখ লাখ টাকার গরু নিয়ে তারা বেশি দামে বেচার আশায় চট্টগ্রাম যাচ্ছেন। কিন্তু শরীয়তপুর-চাঁদপুর ঘাটে এসে আটকে পড়েছেন।  গরুগুলো গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। সাতক্ষীরা থেকে পেঁয়াজ নিয়ে আসা নুরুজ্জামান জানান, তিন দিন ধরে একই জায়গায় আছেন।

নরসিংহপুর আলুর বাজার ঘাটের ইজারাদার ও চরসেনসাস ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিতু মিয়া বেপারী জানান, হঠাত্ গরুবাহী ট্রাক বেশি আসায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বিআইডব্লিউটিসির শরীয়তপুর-চাঁদপুর ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক আব্দুল মোমেন জানান, শরীয়তপুর-চাঁদপুর নৌ-রুটে বর্তমানে ছোট-বড় ছয়টি ফেরি চলাচল করছে। ঈদ উপলক্ষ্যে দুই-এক দিনের মধ্যে আরো একটি রো রো ফেরি এই নৌ-রুটে যুক্ত হবে। তখন আশা করি ফেরি পারাপারের জন্য খুব একটা অপেক্ষায় থাকতে হবে না। তিনি আরো জানান, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কোরবানির পশুবাহী গাড়িগুলোকে পার হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে আমরা পেঁয়াজের গাড়িগুলোকে সুযোগ করে দিচ্ছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঘাটে বেশকিছু গরু অসুস্থ হওয়ার খবর তিনি পেয়েছেন।