অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সিনহা হত্যার পর থেকে কার্যত বন্ধ ছিল ‘বন্দুকযুদ্ধ’। তবে সম্প্রতি কথিত বন্দুকযুদ্ধে ঘটছে মৃত্যুর ঘটনাও। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার ভোররাত পর্যন্ত ৩৫ ঘণ্টার ব্যবধানে কক্সবাজার শহর, উখিয়া ও টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে রোহিঙ্গা ডাকাতসহ তিন জন নিহত হয়েছেন। বাংলাদেশি দুই জনের একজনকে মাদককারবারি ও অন্যজন সন্ত্রাসী বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গতকাল শনিবার ভোরে কক্সবাজার পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাহিত্যিকা পল্লি এলাকার বড়বিল মাঠে র?্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত ব্যক্তির নাম আশরাফ আলী ওরফে আশু আলী (২৫)। ঘটনাস্থল থেকে দেশি বন্দুক ও গুলি জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র?্যাব-১৫-এর উপ-অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার তানভির হাসান।
আশু আলী পৌরসভার বিজিবি ক্যাম্প ফরেস্ট অফিসপাড়ার জাফর আলমের ছেলে। পুলিশ জানায়, আশু আলীর বিরুদ্ধে হত্যা, ছিনতাই, অস্ত্র, ডাকাতি প্রস্তুতিসহ প্রায় ১২টি মামলা রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ক্রাইমজোন হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়া এলাকা, সমিতি বাজার, সিকদার বাজার ও জেলা কারাগারের পেছনের এলাকা আশু আলী বাহিনীর রাজত্ব। আশু আলী এই সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান হওয়ার আগে তাদের প্রধান ছিলেন আমির খান। ২০১৯ সালে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিনি নিহত হন।
অন্যদিকে, শুক্রবার ভোররাতে টেকনাফের জাদিমুড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ের পাদদেশে র্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যান ক্যাম্প এলাকার আতঙ্ক রোহিঙ্গা ডাকাত হাশেম উল্লাহ (৩৩) নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল হতে একটি দেশীয় তৈরি অস্ত্র, একটি বিদেশি পিস্তল, বিপুল পরিমাণ ম্যাগজিন ও গুলি উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করেছে র্যাব। হাশেম জাদিমোড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি-ব্লকের বশির আহমদের ছেলে। সম্প্রতি ডাকাতিতে ব্যর্থ হয়ে স্থানীয় এক বাড়ির তিন সহোদরকে গুলি করার ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত ছিল হাশেম। র্যাব টেকনাফ ক্যাম্পে দায়িত্বরত এএসপি বিমান কুমার কর্মকার এ তথ্য জানান।
অন্যদিকে, কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আলী হায়দার আল আজাদ জানান, ‘গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের নলবনিয়া এলাকায় চিংড়ি ঘেরে মাদককারবারি ও বিজিবির সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় লুত্ফুর রহমান লুতু নামে এক মাদককারবারি নিহত হয়েছেন। এসময় তার কাছ থেকে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ও একটি দেশীয় তৈরি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। লুতুর বিরুদ্ধে উখিয়াসহ বিভিন্ন থানায় ১২টি মামলা রয়েছে।’ তবে লুতুর কাছে অস্ত্র বা ইয়াবা কিছুই পাওয়া যায়নি বলে দাবি করে লুতুর বড় ভাই মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘গত বছর নুরুল আলম নামের বিজিবির এক সদস্যের অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে তার সঙ্গে তর্কাতর্কি হয় লুতুর। এর জের ধরে তার ভাইকে শত শত মানুষের সামনে দিনদুপুরে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ বিষয়ে পারিবারিক সিদ্ধান্তের পর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
