চলমান ৪২তম বিসিএস থেকে ৪ হাজার ডাক্তার নিয়োগ

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২১, ২৩:২৩

করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় চিকিত্সা খাতে সেবা বাড়াতে দ্রুত সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্য ক্যাডারে আরো ২ হাজার চিকিত্সক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। চলমান ৪২তম বিসিএস থেকে অতিরিক্ত এই ২ হাজার চিকিত্ক নিয়োগ দেওয়া হবে। এর ফলে ৪২তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ২ হাজার এবং অতিরিক্ত ২ হাজারসহ মোট ৪ হাজার চিকিত্সক নিয়োগ পাবেন। পিএসসির সংশ্লিষ্টরা ইত্তেফাককে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিএসসির চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইন ইত্তেফাককে বলেন, অতিরক্তি আরো যে ২ হাজার চিকিত্সক নিয়োগ দেওয়া হবে, তা ৪২তম বিসিএস থেকেই।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য খাতে দ্রুত সাড়ে ১৭ হাজার নিয়োগ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে ২ হাজার চিকিত্সক, ৪ হাজার নার্স, ৪০৯ জন জুনিয়র কনসালট্যান্ট এবং ১১ হাজার টেকনোলজিস্ট পেতে যাচ্ছেন এই নিয়োগ। ইতিমধ্যে পিএসসি ৪০৯ জুনিয়র কনসালট্যান্ট নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।

গত ৮ জুলাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মাসিক সমন্বয়সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৪ হাজার চিকিত্সক ও ৮ হাজার নার্স নিয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রীর         কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে ২ হাজার নার্স ও ৪ হাজার চিকিত্সক নিয়োগের অনুমোদন দেন। যদিও এখন পর্যন্ত সরকারি কর্ম কমিশন ২ হাজার চিকিত্সক নিয়োগের চাহিদাপত্র পায়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) নূর আহমদ ইত্তেফাককে বলেন, ২ হাজার চিকিত্সক নিয়োগের চাহিদাপত্র এখনো আসেনি। দ্রুত চাহিদাপত্র আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ৩৯তম বিসিএস থেকে ২ হাজার চিকিত্সক নিয়োগ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।

করোনা পরিস্থিতির অবনতিতে স্বাস্থ্য খাতে জনবলের বেশ সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে চিকিত্সকের সংকট চরমে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালগুলোতে পদ থাকা সত্ত্বেও প্রায় সাড়ে ১১ হাজার পদে কোনো চিকিত্সক নিয়োগ করা হয়নি। এর আগে ২০১৯ সালে ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে প্রথম ধাপে সাড়ে ৪ হাজার এবং ২০২০ সালের মে মাসে আরো অতিরিক্ত ২ হাজার চিকিত্সক নিয়োগ দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট চিকিত্সকেরা কর্মস্থলে যোগদান করেছেন।

২০২০ সালের ৭ ডিসেম্বর ৪২তম বিশেষ বিসিএসের সার্কুলার প্রকাশিত হলে সাড়ে ৩১ হাজার আবেদনপত্র জমা পড়ে। চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রিলিতে ৬ হাজার ২২ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হন। গত ৬ জুন মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়। কিন্তু কোভিড পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় গত ২৪ জুন পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়। এই পরিস্থিতিতে ৪২তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি (লিখিত) পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা দাবি জানিয়েছিল যে, এই ২ হাজার চিকিত্সক যেন তাদের মধ্য থেকে নেওয়া হয়। কেননা, চলমান করোনা মহামারির মধ্যেই ৪২তম বিশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ৩১ হাজারেরও অধিক পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬ হাজার ২২ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে অর্ধেকেরও বেশি মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, কিন্তু করোনা পরিস্থিতির হঠাত্ অবনতি হওয়ায় পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। বেশ কয়েক জন পরীক্ষার্থী জানান, ৪২তম বিসিএস পরীক্ষার কারণে গত সাত-আট মাস তারা করোনা সামনে রেখে সরকারি চাকরির আশায় বসে ছিলেন। তাছাড়া ৪২তম বিসিএসের পূর্ববর্তী বিশেষ বিসিএসের অপেক্ষমাণ তালিকায় অধিকাংশ প্রার্থীই রয়েছেন। সে ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী বিশেষ বিসিএস থেকে নিয়োগ দিলে চলমান ৪২তম বিসিএসে বেশ শূন্য পদ থাকবে।