রংপুরে করোনার নমুনা পরীক্ষা দেওয়ার ১২ দিনেও মেলে না রিপোর্ট। রংপুর মেডিক্যাল কলেজের এক মাত্র পিসিআর ল্যাবের সক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি নমুনার জটের সৃষ্টি হয়েছে। সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশি নমুনা পরীক্ষা করতে না পারায় ঢাকায় পাঠানো হলেও দীর্ঘ ১২ দিনেও নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসেনি। এই ১২ দিনে ফলাফলের অপেক্ষায় থেকে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন অন্তত ১০ জন।
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে জানা গেছে, মেডিক্যালের একমাত্র পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা প্রতিদিন ১৮৮টি। তাও আবার রংপুর সিটি করপোরেশনসহ রংপুর জেলা, পার্শ্ববর্তী লালমনিরহাট, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার রোগীদের নমুনা পরীক্ষা একমাত্র পিসিআর ল্যাবে করা হয়। এ জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ প্রতিটি জেলা ও রংপুর সিটি করপোরেশনের জন্য নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা নির্ধারণ করে দিয়েছে। গড়ে চার জেলার প্রতিটি জেলার জন্য ৩০টি করে নমুনা পরীক্ষা করে পিসিআর ল্যাব রংপুর সিটি করপোরেশনের জন্য ৩৫টি, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের জন্য ২৫টি এবং বাকি কয়েকটি পুলিশ বিজিবি আর ভিভিআইপিদের জন্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রংপুর মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাবের এক কর্মকর্তা গতকাল শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, ১২ দিন আগে আড়াই হাজার নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে শুক্রবার ৩২০টি নমুনার রিপোর্ট আসে। শুক্রবার আবারও ১ হাজার ২০০ নতুন নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এসব পরীক্ষার রিপোর্ট কবে পাওয়া যাবে নিশ্চিত না।
রংপুর নগরীর হাজিপাড়া মহল্লার সাদেকুর রহমান স্বপন জানান, ১২ দিন আগে তিনি নমুনা দিয়েছেন তারও দুই দিন আগে থেকে জ্বর আর শ্বাস কষ্টে ভুগছেন। গুরতর অসুস্থ থাকার পরেও রংপুরে কোভিট ডেডিকেটেড হাসপাতালে ভর্তি হতে গিয়েছিলাম কিন্তু রিপোর্ট পজিটিভ না হলে ভর্তি নেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। একই অভিযোগ নগরীর মুন্সিপাড়ার সাহাবুল ইসলামের। তিনি রংপুর সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে ১০ দিন আগে নমুনা প্রদান করলেও এখনো রিপোর্ট আসেনি। নগরীর শালবন এলাকার সালমা বেগম জানান, তার মায়ের নমুনা পরীক্ষা করতে দিয়েছেন ১০ দিন আগে।
রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কামরুজ্জামান রংপুর মেডিক্যাল কলেজ পিসিআর ল্যাবে নমুনা জটের কথা স্বীকার করে বলেন, অনেক নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে আশা করা হচ্ছে দুই-তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট আসবে। রংপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ এবং পিসিআর ল্যাবের প্রধান অধ্যাপক ডা. নুরন্নবী লাইজুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা এসব নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠিয়েছি। আশা করা হচ্ছে অল্প সময়ের মধ্যে নমুনার রিপোর্ট পাওয়া যাবে। রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. জাকিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের চার জেলার জন্য একটি মাত্র পিসিআর ল্যাব আছে তার সক্ষমতাও কম ফলে নমুনা জটের সৃষ্টি হয়েছে।
