পাবনার পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা করছে না কেউ

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২১, ২০:৫৬

উপচে পড়া ভিড়

পাবনার সিভিল সার্জন ডা. মনিসর চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, মানুষ সচেতন হচ্ছে না। ঈদের আগে পশুর হাটগুলোতে যেভাবে মানুষ উপচে পড়ছে, এতে ঈদের পরের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়া ছাড়া করার কিছুই নেই

পাবনা প্রতিনিধি

পাবনা মধ্য শহরের গোপালপুর মহল্লার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান রবিবার দুপুরে কোরবানির পশু কেনার জন্য শহরের পশ্চিমে পুরোনো পশুর হাট টেবুনিয়ায় গিয়েছিলেন। কিন্তু হাটে ভিড়ের কারণে ঠিকমতো পশু যাচাই করতে না পারার কারণে পশু না কিনেই বাড়ি ফিরেছেন তিনি।

মোস্তাফিজুর রহমান জানান, হাটে রাস্তা থেকেই ভিড় শুরু হয়। করোনা মহামারি উপেক্ষা করে হাটে মানুষের ঢল দেখে আতঙ্কিত হয়ে বাড়ি ফিরে এসেছিলেন তিনি। তিনি জানান, হাটে অধিকাংশ মানুষের মুখেই মাস্ক ছিল না, স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। এ অবস্থা দেখে বাসায় ফিরেছেন তিনি।

গত তিন দিনে পাবনার কয়েকটি পশুর হাটে সরেজমিনে গিয়ে কোরবানির পশু কেনার জন্য মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। কোথাও স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা করছে না কেউ। পাবনা সদর উপজেলার শহর সংলগ্ন হাজির হাট, পুস্পপাড়া হাট, টেবুনিয়া হাট, ঈশ্বরদী উপজেলার আওতাপাড়া, অরণকোলা হাট, বেড়া উপজেলার চতুরহাট, সাঁথিয়ার কাশিনাথপুর, আটঘরিয়ার সদর হাট ঘুরে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা গাদাগাদি করে হাটে পশু রেখেছেন। ক্রেতারা হুড়োহুড়ি করে পছন্দের পশু কিনতে হাটে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। এতে পশুর হাটগুলো দৃশ্যত জনসমুদে  পরিণত হয়েছে।

হাজিরহাটের ইজারার টাকা সংগ্রহকারী কামরুল ইসলাম বললেন, ‘হাটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরে প্রবেশ করতে এবং অতিরিক্ত ভিড় না করতে প্রতিনিয়ত মাইকিং করা হচ্ছে। তবে, ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়ের কারণে এগুলো মেনে চলতে সমস্যা হচ্ছে।’ তিনি জানান, একটি গরু বা একটি ছাগল কেনার জন্য অধিকাংশ ক্রেতা কমপক্ষে পাঁচ থেকে ছয় জন লোক নিয়ে হাটে আসেন। ফলে, হাটে ২ হাজার পশু থাকলে ১০ হাজারের বেশি মানুষের সমাগম হয়। ঈদের আগে এই শুক্রবার হাটে বেশি জনসমাগম হয়েছে এবং এদিন অন্তত ২ হাজার গরু ও ছাগল বিক্রি হয়েছে জানিয়ে কামরুল বলেন, ‘হাট কর্তৃপক্ষ প্রতিনিয়ত ক্রেতা-বিক্রেতাদের সচেতন করার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাস্তবে অতিরিক্ত মানুষের চাপে স্বাস্থ্যবিধি মানা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সম্ভব হয়ে উঠছে না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাবনা জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মখলেছুর রহমান বলেন, করোনা মহামারির এই কঠিন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে ১৯টি শর্ত পূরণ করে পশুর হাট পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাবনা জেলায় এ বছর ২৬টি পশুর হাটের অনুমতি দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি হাট কর্তৃপক্ষকে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করার নির্দেশনা দেওয়া হলেও, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কেউই তা মানছে না। তিনি আরো বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি হাটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া, ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। চেষ্টা করা হচ্ছে বিধিনিষেধ মেনে যেন হাট পরিচালনা হয়। কিন্তু, কেবল প্রশাসন চেষ্টা করলেই তা সম্ভব হবে না, জনসাধারণকেও তাদের নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

পাবনার পুলিশ সুপার মুহিবুল ইসলাম খান ইত্তেফাককে বলেন, কোরবানির পশুর হাটে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য জেলা পুলিশ প্রতিটি হাটে পুলিশ মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাট পরিচালনা করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিটি হাটের সামনে নির্দেশনাসহ ব্যানার রাখা হয়েছে।

পাবনার সিভিল সার্জন ডা. মনিসর চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, সাধারণ মানুষের অসচেতনতার কারণে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন আক্রান্ত ও মৃত্যুর নতুন নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে। তারপরও  মানুষ সচেতন হচ্ছে  না। ঈদের আগে পশুর হাটগুলোতে যেভাবে মানুষ উপচে পড়ছে, এতে ঈদের পরের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়া ছাড়া করার কিছুই নেই। এ অবস্থা থেকে বাঁচতে সবাইকে সচেতন হয়ে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথ অনুসরণ করার আহ্বান জানান তিনি।