দিনাজপুরে বকেয়া টাকার অপেক্ষায় চামড়া ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২১, ২১:১৮

মতিউর রহমান, দিনাজপুর অফিস

ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে বকেয়া টাকা পাওয়ার আশায় আছেন দিনাজপুরের চামড়া ব্যবসায়ীরা। পুঁজির অভাবে দুশ্চিন্তায় থাকা এসব চামড়া ব্যবসায়ী জানান, কোরবানি ঈদের আগে বকেয়া টাকা না পেলে তাদের জন্য এবার চামড়া কেনা কঠিন হয়ে পড়বে। আর এই অবস্থায় সীমান্তবেষ্টিত এই জেলা থেকে ভারতে চামড়া পাচারের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আর তিন দিন পরেই কোরবানির ঈদ। এবারের প্রস্তুতি কেমন? এমন প্রশ্ন করতেই দিনাজপুরের রামনগরের চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির এক সদস্য জানান, ‘এখন পর্যন্ত ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে বকেয়া টাকা পাইনি। পেলে চামড়া কেনা হবে, নইলে নয়।’ দিনাজপুরের রামনগরের চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের জানান, দিনাজপুরে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১০০ চামড়া ব্যবসায়ী ছিলেন। ঢাকার ট্যানারি মালিক ও নাটোরের চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছে ২০১১ সাল থেকে দিনাজপুরের চামড়া ব্যবসায়ীদের বকেয়া পড়ে আছে প্রায় ২০ কোটি টাকা। গত বছর কেউ কেউ কিছু টাকা পেয়েছে। আর অধিকাংশ ব্যবসায়ীই বকেয়া টাকা না পেয়ে পথে বসেছেন। আবার কেউ কেউ এই ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছে। 

তিনি বলেন, রামনগরে এখন হাতে গোনা ১০ জন চামড়া ব্যবসায়ী এই ব্যবসা ধরে রেখেছেন। এসব ব্যবসায়ীর এক বছর ধরে পাওনা প্রায় ৩ কোটি টাকা। পুরাতন বকেয়া টাকার আশা একরকম ছেড়ে দিয়ে এক বছরের বকেয়া টাকার জন্য ঢাকায় ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। আগামী সোম বা মঙ্গলবারের মধ্যে বকেয়া টাকা দেওয়ার কথা। এর মধ্যে এই টাকা না পেলে এবার পুঁজির অভাবে হাত গুটিয়ে বসে থাকতে হতে পারে তাদের। এ জন্য বকেয়া টাকার জন্য ঢাকার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তারা। এবারের কোরবানিতে সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম সম্পর্কে আবুল খায়ের জানান, সরকার যে দাম নির্ধারণ করে দেয়, কোনো বারই ঐ দাম তারা পায়নি। এবারও ঐ দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

দিনাজপুর চামড়া ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আখতার আজীজ জানান, গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে চামড়ায় ধস নেমেছে। আর তাই পাওনা টাকা প্রদান করছে না ট্যানারি মালিকরা। বিষয়টি নিয়ে ট্যানারি মালিক ও সরকারের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। বকেয়া টাকা না পাওয়ায় অধিকাংশ চামড়া ব্যবসায়ীই পুঁজি হারিয়ে পথে বসেছেন। গ্রাম-শহরে চামড়ার ব্যবসায়ীরা ধ্বংসের দারপ্রান্তে, তাই চামড়া শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এখনই জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।