সংযোগ পাবে ১৬ হাজার পরিবার
পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির প্রকৌশলী মাইনউদ্দীন আহমেদ বলেন, আমাদের টার্গেট চলতি মাসের ৩১ তারিখের মধ্যে সাবস্টেশন পর্যন্ত বিদ্যুত্ নিয়ে আসা। সাবস্টেশন চালু হয়ে গেলে যে কয়জন গ্রাহককে সংযোগ দিয়ে মিটার লাগানো যাবে, তাদের দিয়েই পরীক্ষামূলক সরবরাহ শুরু করার চেষ্টা করব
শুভ সিকদার, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা
এক দিকে সমুদ্র আর তিন দিকে নদী দ্বারা বেষ্টিত পটুয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালী দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হতে যাচ্ছে। সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে নদীর তলদেশ দিয়ে বিদ্যুত্ পেতে যাচ্ছে এ জনপদের মানুষ। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী মাসের (আগস্ট) প্রথম সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুত্ পৌঁছে যাবে দক্ষিণের জেলা পটুয়াখালীর ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রাঙ্গাবালী উপজেলায়। প্রাথমিক পর্যায় সাড়ে ২৯ হাজার পরিবার বিদ্যুত্সুবিধার আওতায় আসবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির তথ্যমতে, কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকলে আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে উপকেন্দ্র পর্যন্ত বিদ্যুত্ পৌঁছবে। আগস্টের প্রথম সপ্তাহে বাতি জ্বলবে সংযোগ পাওয়া প্রত্যেকটি ঘরে।
জানা গেছে, জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে উপজেলায় বিদ্যুেসবা দিতে ১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। এই উপকেন্দ্র থেকে রাঙ্গাবালী, ছোট বাইশদিয়া, বড় বাইশদিয়া ও মৌডুবি ইউনিয়নের ১৬ হাজার পরিবার বিদ্যুত্সুবিধার আওতায় আসবে। চরফ্যাশন থেকে চর মোন্তাজ ইউনিয়নে ৯ হাজার ও গলাচিপা থেকে চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নে সাড়ে ৪ হাজার পরিবারকে বিদ্যুত্সুবিধায় আনা হবে।
পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ১১৯৪ কিলোমিটার সংযোগ লাইনের কাজ চলমান। ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বাবুর হাট থেকে মুজিবনগর হয়ে চর কাজল-চর বিশ্বাস অতিক্রম করে বুড়াগৌরাঙ্গ নদের তলদেশ দিয়ে দুই কিলোমিটার সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে রাঙ্গাবালী উপকেন্দ্রে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুত্ পৌঁছবে। একইভাবে পার্শ্ববর্তী উপজেলা গলাচিপার চর কারফারমা হয়ে আগুনমুখা নদীর তলদেশ দিয়ে এক কিলোমিটার সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নে বিদ্যুত্ পৌঁছবে। চরফ্যাশন উপজেলার নজরুলনগর হয়ে নলুয়া স্লুইস খাল থেকে সাড়ে ৮০০ মিটার সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে লক্ষ্মীর চর দিয়ে চর মণ্ডলের একটি নদী দিয়ে চর মোন্তাজ ইউনিয়নে বিদ্যুত্ পৌঁছবে। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপকেন্দ্রে বিদ্যুত্সংযোগ পৌঁছতে বুড়া গৌরাঙ্গ নদীতে সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের কাজ চলছে।
পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (গলাচিপা-রাঙ্গাবালী) প্রকৌশলী মাইনউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের টার্গেট চলতি মাসের ৩১ তারিখের মধ্যে সাবস্টেশন পর্যন্ত বিদ্যুত্ নিয়ে আসা। সাবস্টেশন চালু হয়ে গেলে যে কয়জন গ্রাহককে সংযোগ দিয়ে মিটার লাগানো যাবে, তাদের দিয়েই পরীক্ষামূলক সরবরাহ শুরু করার চেষ্টা করব।’ তিনি আরো বলেন, কোনো প্রতিকূলতা বা প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না থাকলে আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যুত্ চালু হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যুত্ এ উপজেলার মানুষের কাছে স্বপ্নের মতো। সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। বিদ্যুত্ পৌঁছলে এ উপজেলার মানুষ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে। ফলে সম্ভাবনার এ হাতছানিতে আনন্দিত মানুষ।’
