চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা
পাটের বাজারমূল্য ভালো থাকায় চাটমোহরে দিনদিন পাট চাষ বাড়ছে। বিগত দুই বছর পাটের ভালো দাম পাওয়ায় এ এলাকার কৃষকেরা আবার পাট চাষে আগ্রহী হয়েছেন। চাটমোহর কৃষি অফিস সূত্র জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চাটমোহরের ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকায় ৮ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। এর মধ্যে দেশি ১৩৫ হেক্টর, তোষা ৮ হাজার ৪৪৫ হেক্টর এবং মেসতা ১৪০ হেক্টর। গত বছর চাটমোহরে ৮ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের পাট চাষ হয়েছিল। গত বছরের চেয়ে এ বছর ৬২০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ বেশি হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বর্তমানে পাটচাষিরা পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছড়ানো ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। উপজেলার বিলচলন, ছাইকোলা, হান্ডিয়ালে, ডিবিগ্রাম, গুনাইগাছা, মথুরাপুরের নিচু জমিগুলোতে পানি চলে আসায় এ এলাকার কৃষকেরা তোষা ও মেসতা জাতের পাট কেটে ফেলছেন।
উপজেলার ছাইকোলা ইউনিয়নের বোয়াইলমারী গ্রামের পাটচাষী আব্দুল মালেক সরকার জানান, এ বছর ৯ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন তিনি। ইতিমধ্যে কিছু জমির পাট কেটে, পচিয়ে, আঁশ ছড়িয়ে, শুকানোর কাজ করছেন তিনি। আশা করছেন গড়ে আট মণ হারে ফলন পাবেন তিনি। এছাড়া বিঘাপ্রতি প্রায় ২ হাজার টাকার পাটকাঠি পাওয়া যাবে। ৩ হাজার টাকা মণ দরে পাট বিক্রি করতে পারলেও বিঘাপ্রতি তার লাভ থাকবে প্রায় ১৪-১৫ হাজার টাকা।
ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের দাথিয়াকয়ড়াপাড়া গ্রামের পাটচাষী মোশাররফ আলী বলেন, ‘আমরা আগে পাটের দাম কম পেতাম বলে পাট চাষের আগ্রহ কমে গিয়েছিল। পরপর দুবছর পাটের ভালো দাম পাওয়ায় পাট চাষের আগ্রহ বাড়ছে। এ বছর ভালো দাম পাব আশা করছি।’ হান্ডিয়াল ইউনিয়নের ডেফলচড়া গ্রামের পাট ব্যবসায়ী আজিবর রহমান জানান, এক সপ্তাহ আগেও সাড়ে ৩ হাজার টাকা মণ দরে পাট বিক্রি হয়েছে। বর্তমান তোষা ও মেসতা পাট ৩ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।
চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুম বিল্লাহ জানান, পাট চাষিদের সুদিন ফিরেছে। পাট চাষ করে কৃষক এখন অনেক লাভভান হচ্ছেন। ইতিমধ্যে চাটমোহরের পাট কাটা ধোয়ার কাজ শুরু হয়ে গেছে। আবহাওয়া পাট চাষের অনুকূলে থাকায় আশা করা হচ্ছে কৃষক পাটের ভালো ফলন পাবেন।
