কারখানায় স্থাস্থ্যবিধির বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ হচ্ছে

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২১, ২১:৩২

বিজিএমইএ সভাপতি

ইত্তেফাক রিপোর্ট

কারখানাগুলো যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে কি না তা প্রতিনিয়ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন, তৈরি পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান। তিনি বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিক ভাইবোনদের সংক্রমণ পরীক্ষায় বিজিএমইএ গাজীপুরের চন্দ্রায় বিশ্বমানের পিসিআর ল্যাব স্থাপন করেছে। এ ল্যাবে শ্রমিক ভাইবোনেরা স্যাম্পল পরীক্ষা করছেন। এসব ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে শ্রমিক ভাইবোনদের মধ্যে করোনা সংক্রমণের হার শূন্য দশমিক ০৩ শতাংশে রাখা সম্ভব হয়েছে।

ডাচ-বাংলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিবিসিসিআই) গতকাল স্থানীয় এক হোটেলে ‘অন্তর্ভুক্তমূলক ব্যবসা উদ্যোগের মাধ্যমে পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের কল্যাণ’ শীর্ষক সেমিনার আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফারুক হাসান এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, করোনা অতিমারি চলাকালেও যেন জীবন ও জীবিকার মধ্যে সমন্বয় সাধন করে শ্রমিকদেরকে করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষা করা যায়, সে বিষয়েও বিজিএমইএ অনেকগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, আইএলও ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শের আলোকে বিজিএমইএ সদস্যভুক্ত কারখানাগুলোর জন্য স্বাস্থ্যবিধি বা প্রটোকল প্রণয়ন করেছে এবং পোশাক কারখানাগুলো কঠোরভাবে এই স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচালিত হচ্ছে।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ভবন ধসের পর আমাদের সরকারের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে শিল্পে স্থাপত্য, অগ্নি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ক্ষেত্রে অনন্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডসমূহ, আইএলও-এর মতো দাতাসংস্থা সহায়তা প্রদান করেছে। শ্রম আইন দুই বার ২০১৩ ও ২০১৮ সময়ে সংশোধিত হয়েছে এবং কর্মপরিবেশে শ্রমিকদের কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০১৫ সালে শ্রমবিধি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রত্যেক কারখানায় সেফটি কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্বাচনের মাধ্যমে শ্রমিকদের পার্টিসিপেশন কমিটিও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সরকারের তত্ত্বাবধানে কেন্দ্রীয় তহবিল গঠিত হয়েছে, যেখানে শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করার জন্য পোশাক কারখানাগুলো তাদের রপ্তানি আয়প্রাপ্তির বিপরীতে ১ কোটি মার্কিন ডলার প্রদান করছে। সেমিনারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ফাইয়াজ মুর্শিদ কাজী সম্মানিত অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। ডিবিসিসিআই-এর সভাপতি মো. আনোয়ার শওকত আফসার সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন।