দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) সংবাদদাতা
নবাবগঞ্জ উপজেলার বান্দুরা ইউনিয়নের হজরতপুর গ্রামে মাত্র ১০ শতাংশ জমিতে শখের বশে তিন বন্ধু আরিফুল, প্রখর চন্দ্র বাড়ৈই ও হাসান মৃধা মিলে পরীক্ষামূলকভাবে বিদেশি জাতের ত্বিন ফলের বাগান করে সফলতার মুখ দেখতে শুরু করেছেন। সফলতা দেখে তারা এক বছরের মাথায় নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত ত্বিন আরব দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফল। পুষ্টিগুণে ভরা এ ফল স্বাদেও অতুলনীয়। মরু ও শীতপ্রধান দেশগুলোতে এ ফলের চাষের জন্য বেশ উপযোগী। তবে আমাদের দেশে এই ফলের চাষ দিন দিন বাড়ছে। ত্বিন ফল সারা বছরই চাষ করা সম্ভব। এক সময় এ ফলটি দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে রপ্তানি খাতেও উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে।
জানা যায়, এক বছর আগে ইউটিউবে ভিডিও দেখে উত্সাহিত হয়ে তিন বন্ধু মিলে শুরু করেন ত্বিন ফলের চাষ। কোনো রকম প্রশিক্ষণ ছাড়া ভিডিও দেখেই চাষ শুরু করেন তারা। গাজীপুরের মাওনায় অবস্থিত একটি নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করেন তারা। অন্য কাজের ফাঁকে তিন জনের মধ্যে সময় ভাগাভাগি করে গাছের যত্ন নেন। অল্প দিনে এর সুফল পান তিন বন্ধু। পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এই ফল ও গাছের কলম থেকে ডাল বিক্রি করে তারা লাভবান হচ্ছেন। ফলে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে ফলটিকে বাজারজাত করতে বাগান আরো বড় আকারে করার পরিকল্পনা নিয়েছেন তারা।
শৌখিন চাষি আরিফুল ইসলাম বলেন, প্রথমে বাণিজ্যিক চিন্তা না করলেও এখন এটাকে নিজ এলাকার চাহিদা মিটিয়ে সারা দেশে বিক্রির চিন্তা করছেন। তিনি বলেন, বাগান প্রস্তুত করতে লাগে গোবর ৪০ শতাংশ, বালু মাটি ২০ শতাংশ, দোঁআশ মাটি ২০ শতাংশ, ধানের তুষ ১৫ শতাংশ ও ছাই ৫ শতাংশ। একটি গাছ ৩৫ বছর পর্যন্ত ফল দেয়। এক বার শুরু হলে সারা বছর ফল দিতে থাকে।
নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাহিদুজ্জামান বলেন, ত্বিন বিদেশি ফল। এটি চাষ করতে হলে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন আছে। বাগান শুরু করার আগে ওরা তিন বন্ধু কৃষি অফিসে আসেন পরামর্শ নিতে। এ ফলের চাষ সম্পর্কে তিনি তাদের ধারণা এবং সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তবে ড্রাগন ফলের মতো এ ফলের বাগান করে ভালো করতে পারলে এ অঞ্চলের মানুষ অর্থনীতিতে আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
