নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে উজ্জ্বল শরীফুল-সাকিবরা

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২১, ২১:৪১

স্পোর্টস রিপোর্টার

হিমশীতল পরিবেশ, ঘাসহীন উইকেট। ম্যাচ শুরু হতেই উইকেটের রান সংখ্যতাও স্পষ্ট হয়ে যায়। টস জিতেই ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করেননি জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেইলর। যদিও এমন সুযোগের পরিপূর্ণ ব্যবহার করতে পারেনি স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের বোলাররা করতে দেয়নি, বললে আরো যথাযথ হবে।

শুরুটা নড়বড়ে হলেও জিম্বাবুয়ের মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা বড় স্কোরের সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন। তাদের রান তোলার গতিতে বারবারই লাগাম টেনে ধরেছেন সাকিব-শরীফুলরা। দলটির পাঁচ ব্যাটসম্যান ২৫ পেরিয়েছেন, কিন্তু ইনিংস বড় করতে পারেননি কেউই, হাফ সেঞ্চুরি করেছেন মাত্র এক জন। তাই প্রত্যাশিত গন্তব্যে যায়নি জিম্বাবুয়ের স্কোর। ৯ উইকেটে ২৪০ রানের পুঁজি গড়ে দলটি। ব্যাটিংবান্ধব উইকেটেও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন বোলাররা। জিম্বাবুয়ের রানটা নাগালের বাইরে যেতে দেননি তারা।

ইনিংসের প্রথম ওভারেই বাংলাদেশকে উইকেট এনে দেন তাসকিন। ষষ্ঠ বলে তিনাশে কামুনহুকামউই (১) আফিফের হাতে ক্যাচ দেন। কয়েকবার জীবন পাওয়া মারুমানিকে (১৩) ফেরান মিরাজ। টেইলর-চাকাভার জুটি জমে গিয়েছিল। তাদের ৪৭ রানের জুটি বিচ্ছিন্ন করেছেন সাকিব। বোল্ড হওয়ার আগে চাকাভা ২৬ রান করেন। দেশের পক্ষে ওয়ানডেতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার দিনে শরীফুলের বলে হিট উইকেট হয়ে ফিরেছেন টেইলর। ৪৬ রান করেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক।

মিডল অর্ডারে পরের তিন ব্যাটসম্যানও ভালো দৃঢ়তা দেখিয়েছেন। সাকিবের দ্বিতীয় শিকার হন ৩৪ রান করা ডিয়ন মায়ার্স। ষষ্ঠ উইকেটে সিকান্দার রাজা-ওয়েসলি মাধেভেরের জুটিতে আড়াইশো ছাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি করে জিম্বাবুয়ে। শেষ দিকে শরীফুল টেনে ধরেন স্বাগতিকদের রানের গতি। তার টানা তিন শিকারে হোঁচট খায় জিম্বাবুয়ে। মাধেভেরে আউট হন ৪৫তম ওভারে। শরীফুলের বলে দারুণ ক্যাচ নেন তামিম। ক্যারিয়ার সেরা ৫৬ রান করেন তিনি।

পরে ৪৭তম ওভারে বাঁহাতি এ পেসারের জোড়া আঘাতে ফিরেন লুক জঙ্গিয়ে ও ব্লেসিং মুজারাবানি। সিকান্দার রাজাকে থামিয়ে দেন সাইফউদ্দিন। কয়েক মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা এ ব্যাটসম্যান ৩০ রান করেন।

ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেছেন বাংলাদেশের তরুণ বাঁহাতি পেসার শরীফুল। ৪৬ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন তিনি। সাকিব ২টি, তাসকিন-মিরাজ-সাইফউদ্দিন ১টি করে উইকেট নেন। ফিল্ডিংয়ের সময় হাতে আঘাত পেয়ে রক্ত ঝরেছিল তাসকিন, মিরাজের। যদিও দুজনই প্রাথমিক চিকিত্সা নিয়ে আবার মাঠে ফিরেছিলেন।