সাকিব আল হাসানের ব্যাটে রানের জোয়ার দেখেই অভ্যস্ত বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ে সফরে হাসছিল না তার ব্যাট। অবশেষে রানের দেখা পেয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। দলের প্রয়োজনের মুহূর্তে জ্বলে উঠেছেন তিনি। গতকাল হারারেতে তার অনবদ্য হাফ সেঞ্চুরিতেই জিম্বাবুয়ের চ্যালেঞ্জ উতরে গেছে বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়েকে ৩ উইকেটে পরাজিত করেছে টাইগাররা।
এক ম্যাচ বাকি থাকতেই ২-০ তে সিরিজ জয় নিশ্চিত করল তামিম বাহিনী। অলরাউন্ড নৈপুণ্যে জয়ের নায়ক সাকিব। ১৭৩ রানে ৭ উইকেট পতনের পর সাইফউদ্দিনকে নিয়ে ৬৯ রানের জুটি গড়ে দুর্দান্ত জয় এনে দেন তিনি। বোলিংয়ে ২ উইকেট নেওয়ার পর ব্যাটিংয়ে তার অপরাজিত ৯৬ রানই জয়ের মূল জ্বালানি। ম্যাচ সেরাও তিনি। সাইফউদ্দিন অপরাজিত ২৮ রান করেন। দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের এটি ২৮তম সিরিজ জয়। ২০০৯ সালের পর জিম্বাবুয়ের মাটিতে সিরিজ জিতল টাইগাররা।
গতকাল টস জিতে আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ২৪০ রানের পুঁজি গড়েছিল জিম্বাবুয়ে। জবাবে ৪৯.১ ওভারে ৭ উইকেটে ২৪২ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় বাংলাদেশ। আগামীকাল সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে দুই দল।
রান তাড়া করতে নেমে ৭৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। দশম ওভারে অধিনায়ক তামিম ফিরেন ২০ রান করে। এনগারাবার শিকার হন ২১ রান করা লিটন। মিঠুন (২) আবারও ব্যর্থ হন দলের ভরসা হতে। মোসাদ্দেক ফিরেন (৫) রান আউট হয়ে। ৫ম উইকেটে সাকিব-মাহমুদউল্লাহর ৫৫ রানের জুটিতে কিছুটা বিপদ সামলে উঠে বাংলাদেশ। কিন্তু দলীয় ১৩০ রানে মুজারাবানির বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন মাহমুদউল্লাহ। তিনি ২৬ রান করেন।
ব্যাটিং অর্ডারে সাতে উঠে আসা মিরাজ (৬) স্থায়ী হয়েছেন ১৫ বল। স্লগ সুইপে ক্যাচ দেন তিনি। আফিফকে নিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছিলেন সাকিব। তাদের ২৮ রানের জুটি ভাঙে আফিফের আনাড়িপনায়। সিকান্দার রাজাকে ডাউন দ্য উইকেট এসে মারতে গিয়ে স্ট্যাম্পড হন আফিফ (১৫)। সাকিব তুলে নেন ক্যারিয়ারের ৪৯তম হাফ সেঞ্চুরি।
পরে অষ্টম উইকেটে সাকিব-সাইফউদ্দিনের জুটিতে মুখরক্ষা হয় বাংলাদেশের। জিম্বাবুয়ের লুক জঙ্গিয়ে ২টি উইকেট পান।
এর আগে টসজয়ী জিম্বাবুয়ের শুরুটা ভালো ছিল না। ৩৩ রানে ২ উইকেট হারায় দলটি। ইনিংসের প্রথম ওভারে তাসকিন, ষষ্ঠ ওভারে মিরাজ আঘাত হানেন। পরে মিডল অর্ডারে স্বাগতিকদের পাঁচ ব্যাটসম্যান বেশ দৃঢ়তা দেখিয়েছেন। কিন্তু কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে জিম্বাবুয়েকে রানের চাকা আটকে রাখেন বাংলাদেশের বোলাররা। ব্রেন্ডন টেইলর ৪৬ রান করে হিট উইকেট হয়ে ফিরেন শরীফুলের বলে। চাকাভা ২৬, ডিয়ন মায়ার্স ৩৪, সিকান্দার রাজা ৩০ রান করেন। ক্যারিয়ার সেরা ও ইনিংস সর্বোচ্চ ৫৬ রান করেন মাধেভারে। বাংলাদেশের শরীফুল ক্যারিয়ার সেরা ৪৬ রানে ৪ উইকেট নেন। সাকিব ২টি, তাসকিন, মিরাজ, সাইফউদ্দিন ১টি করে উইকেট পান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
জিম্বাবুয়ে: ৫০ ওভারে ২৪০/৯
বাংলাদেশ: ৪৯.১ ওভারে ২৪২/৭
ফল: বাংলাদেশ ৩ উইকেটে জয়ী
ম্যাচ সেরা :সাকিব আল হাসান
