মহাসড়কে গাড়ির চাপ কম

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২১, ২২:৪০

ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে দূরপাল্লার বাস চলাচল। শনিবার মহাসড়কে ছিল তীব্র গাড়ির জট। তবে গতকাল রবিবার থেকে মহাসড়কগুলোকে চাপ কমতে শুরু করেছে। অপরদিকে কমলাপুর স্টেশন বেশ ফাঁকা। নেই আগের মতো কোলাহল। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাটে গাড়ির জট এখনো আছে। পাটুরিয়া লঞ্চঘাটে ও শিমুলিয়ায় মানুষের চাপ বেড়েছে।   মহাসড়ক পরিস্থিতি : ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। দুপুর ১টার পর থেকে এ সড়কে স্বাভাবিক গতিতে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার পরিদর্শক ইয়াসির আরাফাত বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভোর থেকে মহাসড়কের রাবনা বাইপাস থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পর্যন্ত যানবাহনের ধীরগতি ছিল। তবে এখন স্বাভাবিক গতিতে যানবাহন চলাচল করছে। কোথাও কোনো জট নেই। এর আগে ঈদুল আজহা সামনে রেখে বিধিনিষেধ শিথিল করায় গত কয়েক দিন ধরেই ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যানজট লেগে থাকতে দেখা গেছে।

গতকাল ভোররাত থেকে অতিরিক্ত যানবাহন ও ঈদে ঘরমুখী মানুষের চাপে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার রাবনা বাইপাস পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজট দেখা যায়। মহাসড়কের রাবনা, বিক্রমহাটি, রসুলপুর, পৌলি ও এলেঙ্গা এলাকায় সকাল থেকে মাঝে মাঝে ঢাকামুখী লেনে গাড়ি চললেও উত্তরবঙ্গমুখী লেনে গাড়ি থেমে থেমে চলছিল। দীর্ঘ যানজটের কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে চালক ও যাত্রীদের। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের অনেক বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কেই কেটে যাওয়ায় গরু নিয়ে উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকা অভিমুখে যাত্রা করা ব্যবসায়ীরাও পড়েছিলেন চরম বেকায়দায়। তবে দুপুরের পর থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। অপরদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা সিলেট সড়কের কোথায় ছিল না যানজট।

কমলাপুর স্টেশন ফাঁকা :ভিন্ন চিত্র ছিল কমলাপুর রেলস্টেশনে। অন্যান্য বছর ঈদের আগের ঠিক এই সময়ে যাত্রীদের ভিড় ও হুড়োহুড়ি থাকে স্টেশনের প্রতিটি প্ল্যাটফরমে। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে বাড়ি ফেরার আগের চিরচেনা সেই চিত্র এখন আর নেই কমলাপুরে। গতকাল রবিবার সকাল ৯টায় কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, প্ল্যাটফরমগুলো ছিল অনেকটাই ফাঁকা। এই সময়ে যে পরিমাণ যাত্রী থাকার কথা তার অর্ধেকও ছিল না স্টেশনে।

কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে অর্ধেক আসন খালি রেখে ট্রেন চলাচলের অনুমতি দেওয়ায় যাত্রীসংখ্যা অনেকটাই কম। তাছাড়া অনলাইনে টিকিট বিক্রি হওয়ায় বিনা টিকিটে কিংবা স্ট্যান্ডিং টিকিটে স্টেশনে প্রবেশ করতে না পারায় স্টেশন অনেকটা ফাঁকা। প্রতিটি ট্রেন নির্দিষ্ট সময়ে ছেড়ে যাচ্ছে বলেও জানান স্টেশন ম্যানেজার। তবে কমিউটার ট্রেনগুলোতে মানা হচ্ছে না কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি। গাদাগাদি করে যাতায়াত করছে যাত্রীরা।

লঞ্চঘাটে বাড়ছে ভিড় :স্বল্পসংখ্যক যাত্রী নিয়ে চলাচল করেছে লঞ্চ। ফলে আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে প্রতিদিন সকাল থেকে মানুষ ভিড় করতে শুরু করেছে লঞ্চঘাটে। সামাজিক দূরত্ব মানা দূরের কথা, মাস্ক থুতনিতে বা গলায় ঝুলিয়ে লঞ্চঘাটে ভিড়ছেন মানুষ। লঞ্চঘাট কর্তৃপক্ষের নজরদারি উপেক্ষা করে ঢোকার সময় স্বাস্থ্যবিধি মানলেও ভিতরে এসে গাদাগাদি করে মাস্ক খুলে বসে বা দাঁড়িয়ে গল্পগুজব করছেন। অন্যদিকে গাদাগাদি করে যাত্রী বহনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সেটি উপেক্ষা করে ঢাকা নদীবন্দর থেকে ছেড়ে গেছে বেশির ভাগ লঞ্চ। বিআইডব্লিউটিএ ঢাকা নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ সর্বাত্মক চেষ্টা করেও পারছেন না সঠিক ভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদে লঞ্চে যাত্রী পরিবহন করতে। ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চত করতে র্যাবের ৭০ জন সদস্য কাজ করছে বলে জানিয়েছেন র্যাব-১০-এর অধিনায়ক অ্যাডিশনাল ডিআইজি মাহাফুজুর রহমান।

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় বাড়তি চাপ :গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) সংবাদদাতা জানান,  আর মাত্র দুই দিন পর পবিত্র ঈদুল আজহা, ঈদকে সামনে রেখে যাত্রী ও যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ পড়েছে দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের ২১টি জেলার প্রবেশদার খ্যাত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাটে। অতিরিক্ত যানবাহন ও যাত্রীদেরকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে এবং সবার যানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করেছে রাজবাড়ী জেলা পুলিশ। আসন্ন ঈদের আগে এবং পরে গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় যাতে কোনো প্রকার যানজট সৃষ্টি না হয়, ঘাট এলাকায় চুরি, ছিনতাই, পকেটমার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেন রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার এম এম শাকিলুজ্জামান। এছাড়া ঘাট এলাকাতে যাত্রীদের কোনো রকম হয়রানি এবং কোরবানির ঈদের জন্য নদী পারের অপেক্ষায় পশুবাহী ট্রাক থেকে চাঁদা আদায় বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ সদস্যরা।

শিমুলিয়া ঘাটে যাত্রীদের ঢল :মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান,  ঈদকে কেন্দ  করে আজো মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। গতকাল সকাল থেকেই ঢাকাসহ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঘাটে এসে ফেরি ও লঞ্চে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। অর্ধেক যাত্রী ধারণের কথা থাকলেও অধিক যাত্রী নিয়ে পদ্মা পারি দিচ্ছে লঞ্চ। লঞ্চে ও ফেরিতে যাত্রীদের ভিড়ে হিমশিম অবস্থা। বেশির ভাগ যাত্রীর মুখেই মাস্ক নেই।