উপকথা

কোরিয়ার লোককাহিনি

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২১, ১৯:৫১

কোরিয়ার এক সুন্দর গ্রাম। সেই গ্রামের এক বাড়িতে ছিল এক হরিণ, এক খরগোশ আর এক ব্যাঙ। তিন প্রাণীর মাঝে বেশ ভাব। তারা একদিন বিশেষ ঘটনায় গ্রামে এক ভোজের আয়োজন করে।

ভোজে খাবার পরিবেশন নিয়ে প্রাণীকুলে মহা কলহ বাধে। শেষমেষ ঠিক হয়, বয়সে সবচেয়ে বড় প্রাণীই সবার পাতে খাবার দেবে। সেইমতো প্রাণীরা জ্যেষ্ঠতা বাছাইয়ে এক পরীক্ষায় শামিল হয়।

প্রথমেই হরিণের পালা। হরিণ বলে, ‘স্বর্গ ও পৃথিবী তৈরির একমাত্র সাক্ষী—আমিই আকাশে রাজ্যের তারা জুড়ে দিই। এমন ঘটনায় তোমরা বুঝতে পারছ আমার বয়স। তিন প্রাণীর মধ্যে আমি বড়।’

তারপর খরগোশ বলে, ‘পৃথিবী সৃষ্টির সময় চারাগাছ লাগাই। সেই গাছের কাঠ থেকে তৈরি হয় মই। আর মই বেয়েই আকাশে তারারাজি সাজাই। আমি কেবল হরিণ নয়, ব্যাঙের চেয়েও বড়—এটাই তার প্রমাণ।’

ব্যাঙ অনেক সময় ধরে হরিণ ও খরগোশের তর্ক শোনে। আচমকা ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে। তারা বিস্ময়ভরে শুধায়, ‘কী ব্যাপার, ব্যাঙ ভাই?’

ব্যাঙ কাঁদো কাঁদো গলায় বলে, ‘তোমাদের আলোচনায় আমার দুই ছেলের কথা মনে পড়ল। তারা প্রত্যেকে ছেলেবেলায় একটি করে চারাগাছ লাগায়। একসময় দুটি গাছ বড় হয়। বড় ছেলে একটি গাছ কাটে। সেই গাছের কাঠ দিয়ে হাতুড়ির হাতল তৈরি হয়। আকাশে নানা রঙের তারা জুড়তে তখন হাতুড়িই ছিল একমাত্র উপায়। ছোট ছেলের গাছের কাঠে বানানো হয় কোদালের হাতল। আশ্চর্য যে, আকাশের ছায়াপথ খুঁড়তে কোদালের বিকল্প ছিল না। ভীষণ দুঃখের কথা দুই ছেলের কেউই আর বেঁচে নেই। বয়স নিয়ে তোমাদের কলহে আমার কান্না ছাড়া কিবা করার আছে।’

সব শুনে হরিণ আর খরগোশ একমত হয়, ব্যাঙই বয়সে সবচেয়ে বড়। ভোজে খাবার পরিবেশনের সম্মান ব্যাঙেরই প্রাপ্য।

রূপান্তর :কুতুব আজাদ