মহামারি ও ইন্টারনেট প্রযুক্তির বিপ্লব

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২১, ২১:১১

করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব। মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। শিশু থেকে শুরু করে কিশোর-তরুণ-বৃদ্ধ সবার জীবনে যেন এক প্রকার বিষণ্নতা বিরাজ করছে। আর এই স্থবিরতা, বিষণ্নতাকে দূর করতে এগিয়ে এসেছে আধুনিক ইন্টারনেট প্রযুক্তি। গত ১৫ মাসে দেশে ইন্টারনেট প্রযুক্তির ব্যবহার দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। অনলাইনের কল্যাণে ই-কমার্সে লেনদেন ২০ হাজার কোটি টাকার ওপরে পৌঁছেছে। দেশে অফিস থেকে শুরু করে শিক্ষা কার্যক্রম সবকিছুই এখন ঘরে বসে ইন্টারনেটের কল্যাণে সম্ভব হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে যেন এক প্রকার প্রযুক্তিগত বিপ্লব ঘটেছে। মানুষ আগের থেকে এখন অনেক বেশি প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তির কল্যাণে মানুষ এখন ঘরে বসেই নিজেদের চাহিদা পূরণ করছেন এবং জনসেবায় নিয়োজিত হতে পারছেন। জরুরি যোগাযোগ সেবা এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান, তথ্য সংগ্রহ সবকিছুই জানানো সম্ভব ইন্টারনেট সেবার জন্য। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি এখন অনলাইনে অর্ডার করলেই পাওয়া যাচ্ছে।

দেশে করোনার প্রাদুর্ভাবে যখন মানুষ কাজ হারিয়েছে, ঠিক তখনই বন্ধুর মতো পাশে দাঁড়িয়েছে ই-কমার্স। করোনাকালীন ই-কমার্স বা অনলাইন ব্যবসা বেড়েছে কয়েক গুণ। বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগে অনেকে সরাসরি পণ্য বিক্রির ওয়েবসাইট খুলেছেন, অনেকে আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পেইজ খুলে অনলাইন ব্যবসা করছেন। এতে করে একদিকে যেমন বেকারত্বের হার কমেছে অন্যদিকে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে বহু গুণ। ই-কমার্সের গুণে মানুষ এখন স্বল্প সময়ে সব ধরনের পণ্য ক্রয় করতে পারছেন। অন্যদিকে করোনা মহামারি যোগাযোগ ব্যবস্থায় এনেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। করোনা মহামারিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে এখন ঘরে বসেই একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলতে পারছেন। নিজেদের চাওয়া পাওয়াগুলো ফেইসবুকে পোস্ট করে সবাইকে জানাতে পারছেন। সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে পারছেন। ফেইসবুক মেসেঞ্জারে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব সবার খোঁজখবর নিতে পারছেন।

করোনা মহামারিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় শিক্ষা কার্যক্রমে এক প্রকার স্থবিরতা নেমে এসেছিল। ব্যাহত হচ্ছিল শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ। তবে প্রযুক্তির কল্যাণে স্থবির শিক্ষাব্যবস্থায় কিছুটা হলেও প্রাণের সঞ্চার ঘটেছে। শিক্ষার্থীরা তাদের মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও ল্যাপটপ ডিভাইসের মাধ্যমে জুম মিটিং, গুগল ক্লাসরুমের সাহায্যে সহজেই অনলাইন ক্লাসে যুক্ত হয়ে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রেখেছে। শিক্ষার্থীরা অনলাইনের কল্যাণে বিশ্বের আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার উপকরণের সঙ্গে সহজেই সংমিশ্রণ ঘটানোর সুযোগ পাচ্ছে।

স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও প্রযুক্তি রেখেছে বিশেষ ভূমিকা। প্রযুক্তির কল্যাণে এখন মানুষ ঘরে বসেই উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারছেন। মানুষকে আর হাসপাতালে গিয়ে ভিড় জমাতে হচ্ছে না। এতে করে একদিকে যেমন স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে একই সঙ্গে অসংখ্য মানুষকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে।

করোনা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে যে বিষণ্নতা এনেছিল তা অনেকটাই দূর করেছে আধুনিক ইন্টারনেট প্রযুক্তি। মানুষ তার প্রতিটি মৌলিক চাহিদা এখন ঘরে বসেই মেটাতে সক্ষম হচ্ছে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিত্সা ও শিক্ষা সবকিছুই এখন ঘরে বসে করা সম্ভব হচ্ছে। মানুষ ঘরে বসেই অনলাইনে অর্ডার করে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয় করছে। জরুরি সেবা পাচ্ছে ঘরে বসেই। জরুরি পানি, বিদ্যুত্, গ্যাস বিল অনলাইনের মাধ্যমে প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে। মানুষ এখন ইন্টারনেটের সাহায্যে ঘরে বসেই পত্রিকা, বিভিন্ন বই পড়তে পারছেন। আধুনিক প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে করেছে স্বাচ্ছ্যন্দময়। বর্তমান দেশে অসংখ্য ব্যবসায়িক বা ই-কমার্স সাইট তৈরি হয়েছে। যেখানে কাজ করে অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং সেই সকল মানুষ নিজেদের অভাব কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছেন।

আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এক দিকে যেমন আমাদের উপকার করছে ঠিক তেমনি এর অত্যধিক ব্যবহার মানবজীবনে বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবু বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের জীবনকে গতিশীল রাখতে প্রযুক্তির ভূমিকা অনস্বীকার্য।

n লেখক :শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়