বিভিন্ন স্থানে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। দেশি-বিদেশি নানা জাতের গরুর পাশাপাশি ছাগলও বিক্রি হচ্ছে হাটে। আবার কোথাও হাটে ভিড় থাকলেও তেমন বিক্রি না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন পশু খামারি ও ব্যবসায়ীরা। তবে হাটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না বলে জানা গেছে। আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর :
রাজশাহী :গরুর হাটে কেনাবেচা জমে উঠেছে। তবে জমে উঠেনি অনলাইনে বিক্রি। পশু বিক্রেতারা বলছেন, অনলাইনের চেয়ে হাটেই পশু বিক্রি উত্তম। এখানে দরদাম করে বিক্রি করা হচ্ছে। অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রির উপায়ও তারা জানেন না। এদিকে গরুর হাটে ভিড়ের মধ্যে ঠেলাঠেলি করে ক্রেতারা গরু কিনছেন। ক্রেতা-বিক্রেতাদের মুখে থাকছে না মাস্ক। তারা মানছেন না স্বাস্থ্যবিধিও। নগরীর সিটিহাটে গিয়ে দেখা গেছে, রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে নিয়ে আসা হচ্ছে কোরবানির পশু। হাটের ক্রেতা-বিক্রেতারা জানিয়েছেন, এবার ছোট গরুর দাম বেশি। সেই তুলনায় বড় গরুর দাম অনেক কম। সিটিহাটের মূল ইজারাদার আতিকুর রহমান কালু বলেন, আমরা এখন ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সুবিধার্থে প্রতিদিনই হাট বসাচ্ছি। শনিবার রাজশাহীর বানেশ্বরেও হাট বসেছে। শুক্রবার হাট বসেছে মান্দার চৌবাড়িয়া, রাজশাহীর কাঁটাখালী আর চাঁপাইনবাবগঞ্জের বটতলীতে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন জানান, অনলাইনে রাজশাহীর পশু বিক্রি করতে সরকারি উদ্যোগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ১৫টি গ্রুপ ও পেইজ খোলা হয়েছে। এছাড়া বেসরকারি উদ্যোগে আরো পাঁচটি গ্রুপ ও পেইজ আছে।
ঠাকুরগাঁও :সদর উপজেলা খোঁচাবাড়িহাটে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। গত শুক্রবার সকাল থেকেই হাটে দেশি-বিদেশি নানা জাতের গরুর পাশাপাশি ছাগলও বিক্রি হচ্ছে। তবে করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি মানছেন না ক্রেতা-বিক্রেতাসহ দর্শনার্থীরা। জরিমানার পরেও পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন। দুপুরে ঠাকুরগাঁও খোঁচাবাড়ি হাটে প্রচুর গরু ও মানুষের ভিড় দেখা যায়। ক্রয়-বিক্রয়ও ছিল ভালো। গরু ক্রেতা মামুন হোসেন বলেন, বিক্রেতারা অনেক বেশি দাম চায়, দরাদরি করে কিনতে হয়। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রতিটি হাটে আসা মানুষের জন্য বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। দুই ধরনের স্বেচ্ছাসেবকরা হাতধোয়া ও মাস্ক পরিধান নিশ্চিতে কাজ করছে।
রংপুর :হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় থাকলেও তেমন বিক্রি হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পশু খামারি ও ব্যবসায়ীরা। এখন অতিরিক্ত পশু বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় তারা। রংপুরের কাউনিয়ার খানসামার হাট, টেপামধুপুর হাট, পীরগাছার দেউতির হাট, নিশবেতগঞ্জ হাটে গিয়ে দেখা গেছে, পশুর হাটে গরুসহ কোরবানির পশু উঠেছে হাজার হাজার। কিন্তু সেই তুলনায় বিক্রি নেই। নগরীর নিসবেতগঞ্জ হাটের পশু ব্যবসায়ী আব্দুল আহাদ জানান, হাটে লোক আসলেও তেমন বেচাকেনা নাই। এবার মানুষের আর্থিক অবস্থা খারাপ তাই অনেকে কিনতে পারছে না। রংপুর পশু খামার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক লতিফুর রহমান মিলন জানান, করোনায় সব পশু বিক্রি না হওয়ার আশঙ্কা আছে। রংপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সিরাজুল ইসলাম জানান, করোনার কারণে পশু বিক্রির জন্য ১১টি প্লাটফরম তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু এখানে বিক্রি কম।
মাগুরা :হাটগুলো ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখোরিত হয়ে উঠেছে। এ বছর জেলার খামারগুলোতে লালনপালন করা গবাদিপশুতে জেলার কোরবানির চাহিদা পূরণ হবে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাদিউজ্জামান জানান, এ বছর জেলার খামারগুলোতে লালনপালন করা গবাদিপশুতে জেলার কোরবানির চাহিদা পূরণের পর কিছু গবাদিপশু উদ্বৃত্ত থাকবে।
রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) : কোরবানির ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই পশু বিক্রি ও সঠিক মূল্য নিয়ে শংকা বাড়ছে রাজারহাটের প্রান্তিক খামারি ও ক্রেতাদের মধ্যে। রাজারহাটে কোরবানি উপলক্ষ্যে ছয় থেকে সাতটি পশুর হাট বসেছে। তবে এসব হাটে পছন্দ মতো পশু কিনতে পেরে অনেকে খুশি। উপজেলা বণিক সমিতির সভাপতি আমজাদ হোসেন জানান, হাটগুলোতে সবার হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং সচেতনমূলক মাইকিং করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেনা বেচার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।
আগৈলঝাড়া (বরিশাল) :শেষ সময়ে এসে জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাট। রাজিহার ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ও গৈলা ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সের সামনের মাঠে সোমবার থেকে পশু কেনাবেচা শুরু হয়েছে। অস্থায়ী পশুর হাট চলবে বুধবার পর্যন্ত। থানার ওসি (তদন্ত) মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, পশুর হাটে ইজারাদার কমিটির লোকজনকে যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) :স্বাস্থ্যবিধি বজায় না রেখে পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার ঢল নামছে। রসুলগঞ্জ ও রানীগঞ্জ বাজার ছাড়াও অস্থায়ী ১০টি হাটে কোরবানির পশু বেচাকেনা চলছে। সোমবার অস্থায়ী পশুর হাট পৌর শহরের জগন্নাথপুর বাজারে পশুর সংখ্যা বেশি থাকলেও ক্রেতা ছিল একটু কম। দেশি গরুর চাহিদা বেশি রয়েছে। জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোরবানির পশুর হাট পরিচালনার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সবাইকে মাস্ক ব্যবহার করার জন্যও বলা হয়েছে।
দাউদকান্দি (কুমিল্লা) :দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর, দাউদকান্দি সদর, ইলিয়টগঞ্জ, বরকোটা ও গোয়ালমারীসহ এ উপজেলার ২১ স্থানে কোরবানির পশুর হাট বসেছে। দাউদকান্দি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নাজিম উদ্দীন বলেন, আমাদের যে গবাদি পশু রয়েছে তাতে কোরবানির পশুর কোনো সংকট হবে না।
