রাজশাহীতে এসএমএস জটিলতায় করোনার টিকা গ্রহণে ভোগান্তি

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২১, ২১:৩৭

রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) এলাকায় দ্বিতীয় দফায় করোনার টিকার রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়েছে ৭ জুলাই। মর্ডানা ইঙ্কের করোনার টিকা প্রদান শুরু হয়েছে ১৩ জুলাই। উপজেলাগুলোতে দেওয়া হচ্ছে সিনোভ্যাকের টিকা। কিন্তু অনেকে টিকার রেজিস্ট্রেশন করলেও এখনো কনফারমেশন এসএমএস যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন টিকা গ্রহণে ইচ্ছুকরা।

সরেজমিনে রামেক হাসপাতালে দেখা যায়, টিকার কার্ড নিয়ে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেককে তাদের এসএমএস না আসার কারণে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। এ নিয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, দ্বিতীয় দফায় টিকার রেজিস্ট্রেশন করলেও এসএমএস আসছে না। তাই বাধ্য হয়ে আসতে হচ্ছে মেডিক্যালে। কিন্তু মেডিক্যাল থেকে জানানো হচ্ছে এসএমএস না গেলে টিকা দেওয়া যাবে না।

নগরীর নওদাপাড়ার প্রাক্তন স্কুলশিক্ষক আব্দুর রহমান প্রায় দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এরপর অভ্যর্থনা ডেস্কে গেলে এসএমএস না আসার কারণে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, গত ৮ তারিখে রেজিস্ট্রেশন করেছি। এখন পর্যন্ত কোনো এসএমএস আসেনি। কিন্তু আমার পরে রেজিস্ট্রেশন করে অনেকে টিকা পেয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মহানগরীতে তিনটি কেন্দ্রে টিকা দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রাজশাহী পুলিশ লাইন হাসপাতালে দেওয়া হচ্ছে পুলিশদের জন্য। সেনা হাসপাতালে দেওয়া হচ্ছে সেনাবাহিনীর জন্য ও রামেক হাসপাতালে দেওয়া হচ্ছে নগরবাসীর জন্য। এছাড়াও জেলার ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেওয়া হচ্ছে সিনোফার্মের টিকা। নগরীর রামেক হাসপাতাল কেন্দ্রে প্রতিদিন গড়ে দেড় হাজার মানুষ টিকা নিচ্ছেন। যদিও রাজশাহীতে প্রতিদিন টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৩ হাজারের বেশি।

এ বিষয়ে রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেসদৌস বলেন, এসএমএস, টিকাদান ও মজুদের বিষয়গুলো রাসিকের স্বাস্থ্য বিভাগ দেখছে। মহানগরীর রেজিস্ট্রেশন করা ব্যক্তিদের এসএমএস পাঠানোর দায়িত্বও রাসিকের স্বাস্থ্য বিভাগের।

রাসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, মহানগরীতে রবিবার পর্যন্ত টিকার রেজিস্ট্রেশন করেছেন ২৭ হাজার। গত ৭ ও ৮ জুলাই রেজিস্ট্রেশন হয়েছে ১১ হাজার। আমরা প্রতিদিন রামেক হাসপাতালে গড়ে দেড় হাজার মানুষকে টিকা দিচ্ছি। এজন্য এক সঙ্গে এতগুলো মানুষকে কনফারমেশন এসএমএস দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি বলেন, আমরাও শুনেছি অনেকে টিকা কেন্দ্র গিয়ে ফিরে যাচ্ছেন। সিটি করপোরেশন মূলত ডাটা এন্টির কাজ করছে। নেটওয়ার্কের কারণে হয়তো সুরক্ষা ওয়েবসাইট থেকে এসএমএস পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে। শিগগিরই সবার কাছে টিকার এসএমএস চলে যাবে।