কর্ণফুলী ও হালদায় বিপন্ন মাছ

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২১, ২১:৫৫

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ও হালদা নদীতে মাছেরা বিপণ্ন। আইন অমান্য করে মাছ শিকার এবং নদীতে যান্ত্রিক নৌযানের প্রপেলারের আঘাতে এক দিনেই মারা গেছে কর্ণফুলী নদীতে বসবাসকারী ডলফিন এবং চোরা শিকারির বড়শিতে হালদা নদীর মূল্যবান কাতলা ব্রুড মা মাছ। নদীর মাছের এরকম বিপণ্ন দশায় আবারও গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন নদী বিশেষজ্ঞ এবং পরিবেশবাদীরা। তারা বলছেন, নদী, মাছ ও পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা এবং জনগণের সহায়তা এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে নদীতীরের জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো প্রয়োজন।

গত বৃহস্পতিবার রাতে হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নের মোজাফফরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল আলম হালদা নদী থেকে চোরা শিকারির বড়শিতে ধরা ১৫ কেজি ওজনের একটি কাতলা ব্রুড মা-মাছ উদ্ধার করেন। এটি শিকারনিষিদ্ধ মা-মাছ। অভিযানকালে মাছ শিকারি মাছটি ফেলে পালিয়ে যায়। উপজেলা প্রশাসন মাছটি উদ্ধার করে গবেষণার জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানীদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। বিজ্ঞানীরা জানান, সরকারঘোষিত দেশের একমাত্র কার্পজাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজননস্থল ও বঙ্গবন্ধু হ্যারিটেজ হালদা নদী থেকে এরকম একটি মূল্যবান মা-মাছ নিধনের ঘটনা দুঃখজনক। 

এদিকে বোয়ালখালী উপজেলায় কর্ণফুলী নদীর ছন্দারিয়া শাখা খাল থেকে গত বৃহস্পতিবারই উদ্ধার করা হয়েছে ১০০ কেজি ওজনের ভাসমান মৃত ডলফিন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণীবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং চবি হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, কর্ণফুলীর ছন্দারিয়া খাল থেকে উদ্ধারকৃত ডলফিনটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে কর্ণফুলীতে কোনো জাহাজ বা যান্ত্রিক নৌযানের প্রপেলারের আঘাতে গুরুতরভাবে আহত হওয়ায় মাছটির মৃত্যু হয়েছে। তবে এটি হালদা নদীতে বিচরণকারী ডলফিন নয়।