এক দিনে এযাবত্কালের সর্বাধিক মৃত্যু

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২১, ২২:৩৩

দেশে করোনা ভাইরাসে এক দিনে মৃত্যুর নতুন রেকর্ড হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ২৩১ জন। এর আগে গত ১১ জুলাই দেশে একদিনে সর্বোচ্চ ২৩০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এ নিয়ে দেশে করোনা সংক্রমণ নিয়ে মোট মৃত্যু ছাড়িয়ে গেল ১৮ হাজার। ভাইরাসের বিস্তার  ঠেকাতে কঠোর লকডাউনের শেষ দিন ১৪ জুলাই বাংলাদেশে মোট মৃত্যু পৌঁছেছিল ১৭ হাজারে। সেই তালিকায় আরো ১ হাজার নাম যুক্ত হতে সময় লাগল মাত্র পাঁচ দিন। মাত্র ১৫ দিনে মৃত্যু হল ৩ হাজার মানুষের।

গতকাল সোমবার সকাল ২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২৩১ জনকে নিয়ে দেশে করোনা ভাইরাসে মোট ১৮ হাজার ১২৫ জনে মৃত্যু হলো। গত এক দিনে দেশে প্রায় ৪৫ হাজার নমুনা পরীক্ষা করে আরো ১৩ হাজার ৩২১ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তাতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১১ লাখ ১৭ হাজার ৩১০ জন। এদিকে করোনার পাশাপাশি বর্তমানে রাজধানীর পাশাপাশি সারা দেশের জেলা-উপজেলায়ও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে চার শতাধিক রোগী। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে ৭৫ জন রোগী। ৭৪ জন রাজধানীর ঢাকার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি এবং একজন ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিত্সা নিচ্ছে। এ নিয়ে বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০৩ জনে। এর মধ্যে ঢাকার ৪১টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ৩৯৮ জন ও ঢাকার বাইরের হাসপাতালে পাঁচ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, করোনা ও ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গে কিছুটা পার্থক্য আছে। ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গ হলো, ব্যাকপেইন, প্রচণ্ড মাথা ব্যথা ও জ্বর। আর করোনার উপসর্গ হলো জ্বর, সর্দি-কাশি ও গলায় ব্যথা। ডেঙ্গু জ্বর হলে চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়া এসপিরিন জাতীয় ওষুধ না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে করোনা ভাইরাসে কেবল ঢাকা বিভাগেই এক দিনে ৬ হাজার ৫৪০ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা দিনের মোট শনাক্তের প্রায় অর্ধেক। চট্টগ্রাম বিভাগে রোগী শনাক্ত বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ২৮৮ জন। আর যে ২৩১ জন গত এক দিনে মারা গেছেন, তাদের ৭৩ জনই ছিলেন ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। খুলনা বিভাগে ৫৭ এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সরকারি হিসেবে গত এক দিনে আরো ৯ হাজার ৩৩৫ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৯ লাখ ৪১ হাজার ৩৪৩ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৬৩৮টি ল্যাবে ৪৫ হাজার ১২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৭৩ লাখ ৩৯৯টি নমুনা। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ, যা আগের দিন ২৯ দশমিক ০৯ শতাংশ ছিল। দেশে এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৩০ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৪ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৬২ শতাংশ। ঢাকা বিভাগের মধ্যে ঢাকা জেলায় ৪ হাজার ৮৩৪ জন। গত এক দিনে ঢাকা বিভাগে যে ৭৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে ৪৬ জন ঢাকা জেলার। আর খুলনা বিভাগে মারা যাওয়া ৫৭ জনের মধ্যে ১৫ জন কুষ্টিয়া জেলার বাসিন্দা ছিলেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৬ জন, বরিশাল বিভাগে ৬ জন, রংপুর বিভাগে ১৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১ জন এবং সিলেট বিভাগে আট জনের মৃত্যু হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায়। মৃত ২৩১ জনের মধ্যে ১৩৯ জনেরই বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি।