অযোগ্য হয়েও ঋণ পেলেন এক ব্যাংক চেয়ারম্যান

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২১, ২২:৩৪

বেসরকারি এক ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে ঋণ দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত দুটি ব্যাংক। অথচ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী তিনি ঋণ প্রাপ্তির অযোগ্য। ঢাকা ও ঢাকার বাইরের শাখা থেকে তথ্য গোপন করে তাকে ঋণসুবিধা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ‘জায়েজ’ করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে শতভাগ জামানতের শর্তের কথা বলা হয়। সেই অনুপাতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়। ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তেও এই অনিয়মের বিষয়টি উদ্ঘাটিত হয়। ঋণ প্রদানের সময়ে বেসরকারি খাতের ঐ ব্যাংকের চেয়ারম্যান সরকারি ব্যাংকের নিয়মিত গ্রাহক ছিলেন না।

সূত্র মতে, শতভাগ জামানত দেওয়ার বিষয়ে শুরুতে সম্মত হলেও পরে তা মানতে চাননি তিনি। রাষ্ট্রায়ত্ত ঐ দুই ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের পরামর্শক্রমে তিনি শর্ত শিথিলের আবেদন জানান এবং যথারীতি দুই দিনের মধ্যেই তা মঞ্জুর হয়। ব্যাংকের গণসংযোগ কর্মীরা দৌড়ঝাঁপ করে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সেই চিঠি নিশ্চিত করেন এবং তা সরকারি ব্যাংকে পাঠান। এই সুবিধা পেয়ে চেয়ারম্যান খুশি হন এবং দুই ব্যাংকের এমডিদেরও ‘খুশি’ করেন বলে সূত্র জানায়। এছাড়া, তার নিজের ব্যাংকে সরকারি ব্যাংকের এমডির দুই জন লোকের  চাকরিও দেন।

যদিও শেষ পর্যন্ত          তিনি চেয়ারম্যান পদে থাকতে পারেননি। নানা কারণে আগেও তার ব্যাংক হিসাব জব্ধ হয়েছে। নানা অনিয়মের জন্য তিনি ব্যাংকপাড়ায় বিখ্যাত। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে ঐ চেয়ারম্যান সম্পর্কে বলা হয়েছে, তার মতো ব্যক্তি ব্যাংকের চেয়ারম্যান বা পরিচালক পদে থাকলে আমানতকারীদের অর্থ সুরক্ষিত থাকবে না। তিনি চেয়ারম্যান থাকাকালে নামে-বেনামে নিজ ব্যাংক থেকে অর্থ সরিয়েছেন। টাকা পাচারের ব্যাপারেও এই চেয়ারম্যান সিদ্ধহস্ত। যা বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয়েছে। ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের বাইরেও তার মালিকানাধীন অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তিনি এক দেশে পণ্য রপ্তানি দেখিয়েছেন। অথচ দেশে রেমিটেন্স এসেছে অন্য দেশ থেকে।

তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান থেকে এক দিনেই তিনি ঋণ মঞ্জুর করিয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। আবেদনের পরদিন ব্যাংকের বোর্ড তার ঋণ অনুমোদন করে। এই ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি সঠিক ব্যাবসায়িক ঠিকানা ব্যবহার করেননি। অর্থ্যাত্ নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে তিনি আমানতকারীদের ২০ কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাত্ করেছেন।

ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, ব্যাংকের চেয়ারম্যান থাকলে কত যে সুবিধা তা এই চেয়ারম্যানকে দিয়েই বোঝা যায়। তিনি নগদ সহায়তার ক্ষেত্রেও জালিয়াতি করেছেন। রপ্তানি মূল্য বেশি দেখিয়ে সরকারের কাছ থেকে নগদ সহায়তা নিয়েছেন। তা অডিট অধিদপ্তর কর্তৃক চিহ্নিত হয়েছে। এই অধিদপ্তর থেকে বাড়তি অর্থ ফেরত দিতেও বলেছে। সরকারঘোষিত  প্রণোদনার টাকায়ও অনিয়ম করেছেন ঐ চেয়ারম্যান। শ্রমিক-কর্মচারীর মজুরির নামে প্রণোদনার বাড়তি টাকা তুলে নিয়েছেন।

এই চেয়ারম্যান রাজস্ব ফাঁকিতেও তিনি পটু। তার বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকির মামলাও রয়েছে। বন্ড সুবিধার আওতায় আনা কাঁচামাল খোলা বাজারে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। তিনটি প্রতিষ্ঠানের নামে বন্ড সুবিধায় আনা কাঁচামাল বাইরে বিক্রি করায় প্রায় ৪০ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি। আরেকটি প্রতিষ্ঠানের নামে ২২ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির অভিযোগও পুরোনো। এসব কারণে তার বিন নম্বরও লক করে দেওয়া হয়েছিল।