রাজধানীর মগবাজারে তিন তলা ভবনে বিস্ফোরণের জন্য পাইপলাইনের গ্যাসকেই দায়ী করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, ঐ ভবনে তিতাস গ্যাসের বৈধ সংযোগ প্রায় সাত বছর আগে বন্ধ করে দেওয়া হলেও লাইনটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়নি। ফলে ভবনটিতে অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করা হতো। ভবনটির পাশে পয়োনিষ্কাশন লাইন মেরামত-উন্নয়নের সময় গ্যাসের পাইপলাইনটিতে ছিদ্র তৈরি হয়। ঐ ছিদ্র দিয়ে যাওয়া গ্যাস ভবনের নিচ তলায় শরমা হাউজের ভেতরে জমা হয়। তা থেকেই বিস্ফোরণ এবং প্রাণহানি ঘটেছে।
বিস্ফোরণের ঘটনায় গঠিত পৃথক দুটি তদন্ত কমিটির সদস্যরা এ তথ্য এবং পর্যবেক্ষণ জানান। বিস্ফোরক অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, তিতাস গ্যাস-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর রাইজারটি অবৈধভাবে আগের স্থান থেকে সরিয়ে ভবনের আরেক পাশে রাখা হয়। তিতাস কোম্পানির কয়েক জন কর্মচারী এতে সহায়তা করে। এই অবৈধ সংযোগই মূলত ভয়াবহ বিস্ফোরণের ক্ষেত্র তৈরি করে। তিতাসের এক কর্মকর্তা বলেন, পয়োনিষ্কাশনের কাজের সময় শ্রমিকদের যন্ত্রের আঘাতে ঐ পাইপলাইনটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তা তিতাসকে জানানো হয়। পাইপ মাটিচাপা দিয়ে দায় সারেন তারা। শরমা হাউজের রান্নার স্থানেই পয়োনিষ্কাশন লাইনের ওপর ভাগের ঢাকনা। পাইপের লাইন বেয়ে, ঢাকনা ভেদ করে বের হয় গ্যাস। শরমা হাউজের ভেতরে গ্যাস জমা হয়। পরে রান্নার আগুন থেকে বিস্ফোরণ ঘটে।
গত ২৭ জুন রাতে মগবাজারের ওয়্যারলেস মোড়ের কাছে একটি তিন তলা ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় ১২ জন নিহত ও দুই শতাধিক আহত হন। বিস্ফোরণের সময় বিকট শব্দে নিকটবর্তী কয়েকটি ভবন এবং ঐ এলাকার রাস্তায় থাকা কয়েকটি বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে জানিয়ে পেট্রোবাংলায় একটি তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে তিতাস গ্যাস। শরমা হাউজের রান্নাঘরে থাকা এলপিজি সিলিন্ডার থেকে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে বলে মনে করে সংস্থাটি। বিস্ফোরক পরিদপ্তরের প্রধান পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তাদের তদন্তকাজ শেষ পর্যায়ে। প্রতিবেদন তৈরি শেষে মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে। গত সপ্তাহে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
