রাজশাহীর তানোর উপজেলার বহরইল ভাণ্ডাইল গ্রামে অজ্ঞাত রোগে আট দিনের ব্যবধানে ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঢাকার (আইডিসিআর) পাবলিক হেল্থ ইমারজেন্সি রেসপন্সের ছয় সদস্যের টিম রোগের অনুসন্ধানী কাজ শুরু করেছে। তারা সোমবার তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে একই গ্রামের চিকিত্সাধীন ছয়জনের আলামত সংগ্রহ ও তাদের সঙ্গে কথা বলার পর অজ্ঞাত রোগের অনুসন্ধানে নামেন। বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল্লাহেল মারুফের নেতৃত্বে আসা ছয় সদস্যের টিমে ছিলেন, ডা. রাব্বানী, ডা. ফারসিম, ডা. শাহনাজ শানু, ল্যাব বিশেষজ্ঞ মামুন ও আব্দুল কুদ্দুস। আইডিসিআর পাবলিক হেল্থ ইমারজেন্সি রেসপন্স টিমের প্রধান ডা. আব্দুল্লাহেল মারুফ উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু তারা এখনো খুঁজে পাননি। তদন্ত ও গবেষণার জন্য আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে বিষয়টি সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. রোজিয়ারা খাতুন বলেন, ওই টিমের সদস্যরা তানোর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে অবস্থান করছেন। আলামত সংগ্রহ ও গবেষণার জন্য যে কয়দিন তানোরে থাকা প্রয়োজন তারা অবস্থান করবেন।
প্রসঙ্গত, তানোর উপজেলার বহরইল গ্রামে হঠাত্ অজ্ঞাত রোগে আট দিনে ছয়জনের মৃত্যু হয়। গত ২৭ জানুয়ারি এক ঘন্টার ব্যবধানে জনাব আলী (৪৫), নুরি বিবি (৬৫) ও রুবেল হোসেনের চারদিনের ছেলে শিশুর মৃত্যু হয়। ২৮ জানুয়ারি একই গ্রামের সমশের আলীর (৭০) মৃত্যু হয়এ পাঁচ দিন পর ১ ফেব্রুয়ারি রাহেলা বেগম (৪৮) মারা যান এবং এর পরদিন ২ ফেব্রুয়ারি শনিবার ইমাম আলী বাবু (৩৮) নামের ওই গ্রামের পল্লী চিকিত্সকের মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে ২৯ জানুয়ারি ওই গ্রামের ১২জন অসুস্থ হয়ে পড়ে। এদের মধ্যে একজন তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি হয়ে দুই দিন পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যান। সেই সাথে গ্রামের অসুস্থ ১২ জনও সুস্থ হয়ে উঠেন। গত ৩ জানুয়ারি বিকেলে বহরইল গ্রামের ছয়জন অসুস্থ হয়ে পড়লে বিকেলেই তাদের তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। আক্রান্তরা হঠাত্ বুক ও পিঠে ব্যথা, জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত হন এবং শরীর কালচে রং ধারণ করে।
