রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ও উপসর্গে মৃত্যু আবার বেড়েছে। এ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান। এদের মধ্যে করোনা পজিটিভ ৬ জন এবং করোনা পজিটিভ থেকে নেগেটিভ ১ এবং উপসর্গে ১৫ জন মারা যান।
রামেক হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ নিয়ে জুলাই মাসের ২৩ দিনে রামেক হাসপাতালে করোনা ও উপসর্গে ৪১৮ জনের মৃত্যু হলো। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী মারা যান ১৪ জুলাই ২৫ জন ও সবচেয়ে কম ৪ জুলাই ১২ জন। এর আগে গত জুন মাসে এ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে করোনা ও উপসর্গে মারা যান ৪০৫ জন।
রামেক পরিচালক জানান, নতুন মৃতদের রাজশাহীর ১১ (পজিটিভ ২, উপসর্গে ৮, পজিটিভ থেকে নেগেটিভ ১) জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪ (পজিটিভ ২, উপসর্গ ২) জন, নাটোরের ২ (পজিটিভ ১, উপসর্গ ১) জন, পাবনা ৪ (পজিটিভ ১, পজিটিভ ৩) জন, নওগাঁর ১ (উপসর্গ) জন। এদের মধ্যে ১৪ জনই পুরুষ এবং ৮ জন নারী। এদের ৮ জনের বয়স ৬১ এর ঊর্ধ্বে, ৮ জনের বয়স ৫১ এর ঊর্ধ্বে, ৩ জনের বয়স ৪১ ঊর্ধ্বে, ২ জনের বয়স ৩১ ঊর্ধ্বে এবং ১ জনের বয়স ২১ এর ঊর্ধ্বে।
তিনি বলেন, আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত এ হাসপাতালের ৫১৩ বেডের বিপরীতে করোনা ও উপসর্গের রোগী ভর্তি রয়েছেন ৪১২ জন। এদের মধ্যে রাজশাহীর ২১৬, চাঁপাইয়ের ২২, নাটোরের ৬২, নওগাঁর ৪০, পাবনার ৫২, কুষ্টিয়ার ১০, চুয়াডাঙ্গার ২, জয়পুরহাটের ৩, মেহেরপুর ১, সিরাজগঞ্জের ১, ঝিনাইদহের ২ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১ জন। আইসিইউতে ভর্তি আছেন ১৯ জন। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালে নতুন ভর্তি হয়েছেন ৬১ জন। এদের মধ্যে রাজশাহীর ৩০, চাঁপাইয়ের ৫, নাটোরের ৯, নওগাঁর ৫, পাবনার ১০ জন, কুষ্টিয়ার ১ ও মেহেরপুরের ১ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৬২ জন।

পরিচালক জানান, রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন ৪১২ জনের মধ্যে ১৮৬ জনের করোনা পজিটিভ রয়েছে। আর উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন ১৭৩ জন। এছাড়াও চিকিৎসা নিয়ে করোনামুক্ত হওয়ার পর ফুসফুসে ইনফেকশনসহ পরবর্তী শারীরিক জটিলতার কারণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫৩ জন।
সোমবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালের পৃথক ল্যাবে রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ চার জেলার ২০৩ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে করোনা পজিটিভ এসেছে ৪৬ জনের। রাজশাহীতে সংক্রমণের হার দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৬ দশমিক ৬০ শতাংশ।
ইত্তেফাক/এমআর
