বর্ষাকাল চাষবাসের মরশুম। তবে বৃষ্টি তো চাষবাসের প্রয়োজন মেপে হয় না। এই মরশুমে বৃষ্টির পানি ধরে রাখাকে গুরুত্ব দিয়ে আরো বেশি উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। ভূগর্ভের পানি হুহু করে কমছে। এই পানি মূলত চাষাবাদ, ঘর-গৃহস্থালি, শিল্প কারখানায় ব্যবহার হয়। এর অতিরিক্ত ব্যবহার ও অপচয় বিপদবার্তা দিচ্ছে।
আমাদের এই বাংলাদেশে বর্তমানে বর্ষার সময়কাল কমেছে, বৃষ্টিও অনিয়মিত। কখনো দুই-তিন ঘণ্টার আকাশভাঙা বৃষ্টি, কখনো বা নাগাড়ে দুই-তিন দিন, আবার বেশ কিছুদিন হয়তো শুকনো ও ভ্যাপসা গরম। এতে ভূগর্ভে পানি ভরে ওঠার কাজটা ঠিকমতো হয় না। কম সময় প্রচুর বৃষ্টি হলে তা মাটির ওপর দিয়ে দ্রুত বয়ে গিয়ে নালা-খাল-নদীর মাধ্যমে সমুদ্রে চলে যায়। পানি চুঁইয়ে মাটির নিচে যাওয়ার সময় কম থাকে। এই অবস্থায় বৃষ্টির পানি ধরে রাখতে উদ্যোগী হতে হবে। বড় বড় শহরে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ক্ষেত্রে আবাসনগুলোর ছাদের পানি মাটির নিচে পাঠানোর ব্যবস্থার ওপর জোর দিতে হবে। দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় নতুন বাড়ির নির্মাণে ছাড়পত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে বিষয়টিতে গুরুত্ব দিতে হবে। শহরের উপকণ্ঠে থাকা জলাশয়গুলো সংস্কার করতে হবে। গ্রামাঞ্চলে পাইপ দিয়ে বৃষ্টির পানি মাটিতে পাঠানোর ব্যবস্থা নেই। সে উদ্যোগও চাই।
সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের উচিত—‘পানি ধরো পানি ভরো’ কর্মসূচি গ্রহণ করে পুকুর খনন করা। সেইসঙ্গে শহর-গ্রামের মজে যাওয়া, বুজে যাওয়া খাল, পুকুর, বড় জলাশয়ের সংস্কার জরুরি। এই জলাধারগুলোতে সারা বছর কম-বেশি পানি থাকলে এই পানি চুঁইয়ে চুঁইয়ে মাটির নিচে যায়। এগুলো যাতে শুকিয়ে না যায়—এদিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখাও প্রয়োজন। তাছাড়া বর্ষার পানিতে এগুলো ঠিকমতো ভরে উঠলে অনেকটা পানি বাঁচে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে বিরাট বিরাট প্রযুক্তির দরকার হয় না। দরকার হয় সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের উদ্যোগ আর মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ।
প্রসঙ্গক্রমে বলতে হয়, আমাদের পিরোজপুর জেলা শহরে দামোদর খালসহ বিভিন্ন খাল, ডোবা ও পুকুর রয়েছে যা কি না আজ মজে যাওয়া ও বুজে যাওয়ার রূপ পেয়েছে; এগুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ নিজেদের উদ্যোগে সংস্কার করে দিলে ভূগর্ভে পানি ধরে রাখা সম্ভব হবে। ঠিক এমনি উদ্যোগ চাই সারা দেশ জুড়ে।
ঢাকা
