কোরবানির পশুর চামড়ার দাম অস্বাভাবিক কম

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২১, ২১:৪০

ফেলে দেওয়া হয়েছে

কোথাও কোথাও

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম জানান, ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনেছি। পর্যায়ক্রমে বিষয়গুলো সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক ডেস্ক

এবার কোরবানি করা পশুর চামড়া বিক্রি হয়েছে কম দামে। গরুর চামড়া বিক্রি হলেও অনেক জায়গায় ছাগলের চামড়া বিক্রি হয়নি। চামড়া বিক্রি করতে না পেরে অনেকে তা ফেলেও দিয়েছেন। আর লকডাউনের কারণে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা সংরক্ষণ করা চামড়া বিক্রি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

বগুড়ার স্টাফ রিপোর্টার জানান, বগুড়ায় এবারও অস্বাভাবিক কম দামে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে সাধারণ মানুষ। লাখ টাকা দামের গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে ২০০-৩০০ টাকায়। ছাগল ও ভেড়ার চামড়া কেউ কিনতেই চাননি। দাম না পেয়ে শহরের বাদুরতলা এলাকাসহ আশপাশের এলাকা ও করতোয়া নদীর ধারে হাজার হাজার খাসি ও ভেড়ার চামড়া ফেলে দেওয়া হয়েছে। শহরে বড় ধরনের দূষণের আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার পৌরসভার পক্ষ থেকে সড়কের পাশ থেকে এসব চামড়া তুলে নিয়ে শহরের ঠেংগামারা এলাকার ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। চামড়া ব্যবসায়ী ছারোয়ার সাজ্জাদ জানান, এবার কোনো ব্যবসায়ী তার চাহিদামতো চামড়া কিনতে পারেনি। ছাগলের চামড়ার চাহিদা প্রতিবারই কম থাকে। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার দিকে বগুড়া সদরের গোকুল এলাকায় ময়লার ভাগাড়ে গিয়ে দেখা যায়, পৌরসভার ট্রাকে করে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা পচে যাওয়া চামড়াগুলো ফেলে দিচ্ছে। বগুড়া জেলা সাধারণ চামড়া ব্যবসায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন সরকার জানান, গতবারের তুলনায় এবার চামড়ার দাম ভালোই আছে। বগুড়া পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম বাদশা জানান, আমরা চেষ্টা করছি পৌর এলাকার কোরবানির পশুর চামড়া বা বর্জ্য যাই থাকুক না কেন, তা দ্রুত অপসারণ করার।

পঞ্চগড়ে ছাগলের চামড়া কিনছে না ব্যবসায়ীরা

পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, পঞ্চগড়ে ন্যায্যমূল্যে চামড়া বিক্রি করতে পারছেন না কোরবানিদাতারা। গরুর চামড়া ২৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি করতে পারলেও ছাগলের চামড়া কিনছেন না চামড়া ব্যবসায়ীরা। কঠোর লকডাউন শুরু হওয়ায় চামড়া বিক্রি নিয়ে আরো দুশ্চিন্তায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা জানান, আগামী এক মাসের মধ্যে ক্রয়কৃত চামড়াগুলো ঢাকা বা নাটোরের চামড়া আড়তদারদের কাছে বিক্রি করা হবে। জেলা শহরের প্রায় ৩-৪ হাজার চামড়া কেনা হয়েছে। জেলা শহরের চামড়া ব্যবসায়ী আতাউর রহমান আতা জানান, লকডাউনে যদি ঢাকা বা নাটোরের চামড়া আড়তদারের লোকজন চামড়া কিনতে না আসেন তাহলে এবারও চরম লোকসানের মধ্যে পড়তে হবে। চামড়া ব্যবসায়ী মোজা জানান, গোডাউন ভাড়া, শ্রমিক ও লবণ মিলে প্রতি পিস চামড়া সংরক্ষণে প্রায় ২০০ টাকা খরচ হয়। সরকারিভাবে চামড়া কেনার ব্যবস্থা করলে আমরা চামড়া ব্যবসায়ীরা লাভবান হতে পারতাম। পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম জানান, ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনেছি। পর্যায়ক্রমে বিষয়গুলো সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

মির্জাপুরে চামড়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় ব্যবসায়ীরা

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে পশুর চামড়া। পশুর চামড়া পানির দরে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। লোকসানের মুখে পড়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। শুক্রবার মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে। এ বছর ছাগলের চামড়া বিক্রিই হচ্ছে না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হাফিজুর বলেন, নির্ধারিত দামে চামড়া বিক্রি না হওয়ায় অনেকেই সমস্যায় পড়েছেন।

চাটমোহরে ছাগলের চামড়া ২০ টাকা

চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, চাটমোহরে চামড়ার বাজার মূল্যে ধস নামে। ২ লাখ টাকার গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে মাত্র সাড়ে ৩০০ টাকা। ২৫ হাজার টাকা মূল্যের খাসির চামড়া বিক্রি হয়েছে ২০ টাকায়। ছোট খাসির চামড়া কেউ কিনতেও রাজি হয়নি।

উপজেলার হান্ডিয়াল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কে এম জাকির হোসেন জানান, এবার চামড়া কেনার জন্য কোনো ব্যবসায়ীকে দেখা যায়নি, দুই-একজন কিনছে তাও আবার বড় গরুর চামড়া ৩০০ টাকা ও ছাগলের চামড়া ২০ টাকায়।

ধামইরহাটে পানির দামে পশুর চামড়া বিক্রি

ধামইরহাট (নওগাঁ) সংবাদদাতা জানান, ধামইরহাটে নামমাত্র দামে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে চামড়া ফেলে দিতেও দেখা গেছে। আমইতাড়া বাজারে কোরবানির পশুর চামড়া কিনতে আসা চামড়া ব্যবসায়ী জগদীশ বলেন, গরুর চামড়া ১০০ থেকে ৩০০ টাকায় কিনছি। আর ভেড়া ও ছাগলের চামড়া ২০ থেকে ৩০ টাকায় বেচাকেনা চলছে।