যমুনেশ্বরী নদীর চাকলাঘাটে সেতু নেই

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২১, ২১:৪৫

ভোগান্তিতে ১৫ গ্রামের মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর

দীর্ঘ ৫০ বছরেও কাঙ্ক্ষিত সেতু পায়নি তারাগঞ্জ উপজেলার ১৫টি গ্রামের মানুষ। ফলে চাকলাঘাটে নদীর ওপর বাঁশ-কাঠের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হচ্ছেন তারা। পারাপার হচ্ছে মোটরসাইকেল, সাইকেলও। শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের তৈরি সাঁকো দিয়ে পারাপার হলেও বর্ষার মৌসুমে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন তারা। এ সময় নৌকা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়। ফলে প্রতি বছরই ঘটে দুর্ঘটনা।

জানা যায়, উপজেলা সদরের কুর্শা ইউনিয়নের চাকলা গ্রামে যমুনেশ্বরী নদীর খেয়াঘাট অবস্থিত। খেয়াঘাটের চারপাশে জয়বাংলা, কবিরাজপাড়া, খিয়ারপাড়া, হাজিপাড়া, কুঠিপাড়া, জুম্মাপাড়া, সরকারপাড়া, চাকলা, জলুবার, বানয়িপাড়া, জেলেপাড়া, নদীর পার, পাচানীসহ ১৫টি গ্রাম। এ ঘাটে সেতু না থাকায় এসব গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ নিদারুণ কষ্টে প্রতিদিন যাতায়াত করছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর ওপর সেতু না থাকায় অসুস্থ নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, দিনমজুর, কৃষক, শ্রমিক, রিকশা-ভ্যানের চালকসহ মোটরসাইকেল চালকদের ভোগান্তির অন্ত নেই। বর্তমানে স্থানীয় বসীন্দারা নদীর বুকে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে একটি সাঁকো তৈরি করেছেন। এখন এই সাঁকো দিয়ে ১৫ গ্রামের মানুষ চলাচল করছেন। কিন্তু কোনো ধরনের ভারী যানবাহন এই সাঁকোর ওপর দিয়ে চলাচল করতে পারে না।

জয়বাংলা গ্রাম পলাশ বাবু ও কালু মিয়া বলেন, ‘ বাহে ৫০ বছরেও একটা পুল হয়ছে না। হামার বাপ-দাদারাও এই নদীর জন্যে কষ্ট পায়া মরি গেইছে। হামরাও যাওয়ার পথে, তবু এটেকোনা পুল হয়ছে না বাহে।’ বানিয়াপাড়া গ্রামের বৃদ্ধ বিধান রায় বলেন, নদীতে সেতু না থাকায় ধান, পাট, চাল, শাকসবজি শহরে নিয়ে বিক্রি করা বরই মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের বাধ্য হয়ে কম দামে জিনিসপত্র বেচা বিক্রি করতে হয়।

রহিমাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামলী রানী বলেন, চাকলাঘাটে সেতু না থাকায় বর্ষাকালে নদীর ওপারের পাচানী, জলুবার, নারায়ণজন গ্রামের বেশির ভাগ শিশু ভয়ে স্কুলে আসতে চায় না। আমরা চাকলাঘাটে একটা সেতু নির্মাণের জন্য বারবার দাবি জানিয়ে আসছি। দুঃখজনক স্বাধীনতার ৫০ বছরেও সেখানে একটা সেতু নির্মাণ হয়নি।

কুর্শা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফজালুল হক বলেন, এস্থানে একটি সেতু নির্মাণ হলে হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হবে। এ বিষয়ে এলজিইডির তারাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আহাম্মেদ হায়দার বলেন, শিগিগরই খোঁজ নিয়ে ঐ স্থানে সেতু নির্মাণের জন্য বরাদ্দ চেয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঢাকায় পাঠানো হবে। অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে সেতু নির্মাণ করে দেওয়া হবে। রংপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্ততরের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল হক বলেন, প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য ইস্কিম তৈরি করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন এলেই দরপত্র আহ্বান করে সেতু নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে।