তিস্তায় ভাঙন, দহগ্রামের অস্তিত্ব নিয়ে শঙ্কা

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২১, ২১:৫২

১০ বছরেও বাঁধ নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়নি

 আজিজুল হক দুলাল, পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) সংবাদদাতা  

উপজেলার বহুল আলোচিত দহগ্রাম ইউনিয়ন তিস্তা নদীর করাল গ্রাসে প্রতি বছরই ভাঙছে। জরুরিভাবে ভাঙন রোধ করা না হলে আলোচিত দহগ্রামের অস্তিত্ব নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রামের উত্তর-পশ্চিম দিক হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে তিস্তা নদী। দহগ্রামের বাঁ দিকে দক্ষিণ অংশে বয়ে যাওয়া তিস্তা নদীর ভাঙনে ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে দহগ্রাম। ভাঙনে শত শত পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই, বসতভিটা, আবাদি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। অনবরত বাংলাদেশি অংশে ভাঙছে তিস্তা। ফলে বিলীন হচ্ছে দহগ্রাম আঙ্গরপোতার বিস্তীর্ণ এলাকা, অস্তিত্ব ও আয়তন হুমকির মুখে পড়েছে। দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন এখানকার সর্বস্ব হারানো পরিবারগুলোর।

ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার মালবাজার এলাকায় গজলডোবা ব্যারাজ বাঁধ নির্মাণে তিস্তা নদীর পানি হঠাত্ করেই বৃদ্ধি পায় আবার সহসাই নেমে যায়। চরাঞ্চলবাসীর দাবি উজানে ভারতের গজলডোবা ব্যারাজ বাঁধের মাধ্যমে পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ। পানির তীব্রতা বা পাহাড়ি ঢল নামলে গেট খুলে দিলে ফুঁসে ওঠে তিস্তা। ফসলের খেত তলিয়ে যায়, বালু পড়ে নষ্ট হয়। আবার পানি নামতে থাকলে রুদ্রমূর্তি ধারণ করে তিস্তা নদী। গ্রাস করতে থাকে একরের পর একর ফসলি জমি, বসতবাড়ি। দহগ্রামের মহিমপাড়া গ্রামের কৃষক আলতাব হোসেন, শাহিনুর ইসলাম বলেন, জ্ঞান হওয়ার পর থেকে শুনি তিস্তা ভাঙে। আমাদের প্রায় ৫০ বিঘা জমি নদীতে শেষ হয়েছে। গত তিন বছরে প্রায় আড়াই শ পরিবার নদীভাঙনে নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন প্রধান বলেন, যেভাবে তিস্তা নদী ভাঙছে তাতে আগামী চার-পাঁচ বছর পর দহগ্রাম বিলীন হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর দহগ্রাম সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠের জনসভায় তিস্তার ভাঙন থেকে দহগ্রামকে রক্ষায় বাঁধ দেওয়ার কথা বলেন। বাঁধ নির্মাণে প্রায় ৭০ কোটি টাকার বরাদ্দও দেন তিনি। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বাঁধ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে ১০ বছরেও  সেই বাঁধ নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়নি। ফলে দিনের পর দিন তিস্তার ভাঙনে দহগ্রামের আয়তন কমছে। এ বিষয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুর রহমান বলেন, ভাঙনকবলিত জায়গাগুলো দেখেছি। দহগ্রাম ইউনিয়নকে তিস্তা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভাগীয় কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে অনুরোধ করেছি দ্রুত বাঁধ নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে।